খড়গপুর:“যে উন্নয়ন খড়্গপুরের জন্য করতে চাইছিলাম, সেই উন্নয়ন এখন দিলীপ ঘোষ ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী করছেন। তাদের জন্য গর্বিত। তাদের উন্নয়নে শামিল হতে চাই”। -দলের দেওয়া সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে খড়্গপুরে সা…
খড়গপুর: “যে উন্নয়ন খড়্গপুরের জন্য করতে চাইছিলাম, সেই উন্নয়ন এখন দিলীপ ঘোষ ও
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী করছেন। তাদের জন্য গর্বিত। তাদের উন্নয়নে শামিল
হতে চাই”।
-দলের দেওয়া সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে খড়্গপুরে সাংবাদিক সম্মেলন
করে জানালেন তৃণমূলের কাউন্সিলর তথা প্রাক্তন চেয়ারম্যান, প্রাক্তন বিধায়ক প্রদীপ সরকার। বুধবার দুপুরে
খড়গপুর শহরে সাংবাদিক সম্মেলনের আগে নিজের কার্যালয়ে থাকা তৃণমূল নেত্রীর
বিভিন্ন ছবি সরিয়ে দিয়েছেন তিনি। এরপর দলের নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের কাছে
নিজের ইস্তফা পত্র পাঠালেন মেল করে ।
মঙ্গলবারই
রাজ্য তৃণমূলের পক্ষ থেকে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুসারে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা
তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক পদ দেওয়া হয়েছিল প্রদীপ সরকারকে। তৃণমূলের টিকিটের জয়ী
খড়্গপুর
পৌর এলাকার ৬ নাম্বার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রদীপ সরকার এবারও বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী
হয়েছিলেন তৃণমূলের টিকিটে। কিন্তু বিজেপির দিলীপ ঘোষের কাছে মোটা ব্যবধানে
হেরেছেন এবারও। ইতিপূর্বে বিজেপি প্রার্থী হিরন চ্যাটার্জির কাছে ২০২১ সালে
বিধানসভা নির্বাচনে হেরেছিলেন। ২০২৬ এ ফের হারলেন দিলীপ ঘোষের কাছে। এরপর রাজ্যে
পালাবদল হয়ে গিয়েছে একেবারে। একের পর এক জেলা তৃণমূলের নেতার উপর খাঁড়া নেমে আসছে গ্রেফতারের।বিভিন্ন দুর্নীতির ফাইল খোলা শুরু হতেই
তৃণমূলের নেতারা দল ছেড়ে মুখ্যমন্ত্রী
প্রশংসা শুরু করেছেন ৷ যে পদ্ধতিতে সম্ভাব্য পরিস্থিতি দেখে কদিন আগেই রাজ্য
তৃণমূলের প্রবীণ নেতা মানস রঞ্জন ভূঁইয়া তৃণমূল ত্যাগ করার কথা ঘোষণা করেছিলেন।
এবার সেই ভাবেই বুধবার দুপুরে ঘোষণা করলেন প্রদীপ সরকার।
প্রদীপ সরকার ইতিপূর্বে খড়গপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান
পদে ছিলেন। খড়গপুর বিধানসভার বিধায়ক হিসেবে পদত্যাগ করে দিলীপ ঘোষ যখন লোকসভার
সাংসদ হয়েছিলেন, সেই উপনির্বাচনে কয়েক মাসের জন্য
বিধায়ক হয়েছিলেন প্রদীপ সরকার। এর পর অবশ্য পরপর দুবার ভোটে হেরেছিলেন বিজেপির
কাছে। এবার সেই প্রদীপ সরকার একদিন আগে তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়ার
পরেই সাংবাদিক সম্মেলন করে দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করলেন। সেই সাথে তার মুখে ভুয়োশী
প্রশংসা শোনা গেল দিলীপ ঘোষ ও শুভেন্দু অধিকারীর নামে।
এদিন তিনি বলেন-" তৃণমূলকে মানুষ প্রত্যাখ্যান
করেছে। তাই সেই দলের পদ আমি আর চাই না। দল ছাড়লাম। সেই মর্মে চিঠি পাঠিয়েছি। আমি
বরাবরই উন্নয়নের সঙ্গে থাকতে চাই। যে উন্নয়ন আমি করতে চেয়েছিলাম, সেই উন্নয়ন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও
দিলীপ ঘোষ করছেন। তাই তাঁদের জন্য আমি গর্বিত। তাঁদের উন্নয়নের সামিল হতে চাই।
খড়্গপুরের জন্য যে সমস্ত উন্নয়ন ওনারা শুরু করেছেন তাতে সামিল হতে চাই আমি।আর দিলীপ দা-কে বরাবরাই আমার ভালো লাগতো
৷ নির্বাচনের সময় থেকেই আমরা ভালো সম্পর্কে
দেখেছেন ৷"
তৃণমূলের জেলা নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম
বিষোদগারও করে গেলেন এদিন। তিনি বলেন-"কোন কাজ স্বাভাবিকভাবে করতে দিত না।
জেলা নেতাদের কাছে বিভিন্নভাবে অপমানিত হয়েছি। জেলা সভাপতির দেখা করতে গেলেও
অপমান করতো। তাই সেই দল ছাড়লাম।এখন কোথায় যাবো তা বলতে পারবো না ৷পরিস্থিতি পরে
দেখা যাবে ৷ তবে কাউন্সিলার পদ ছাড়লে আমার ওয়ার্ডের লোকেরা সরকারি সুবিধাগুলি
নিতে পারবেন না ৷ তাই আপাতত কাউন্সিলার থাকবো”৷
#PradipSarkar #Kharagpur #DilipGhosh #SuvenduAdhikari #TMC #BJPWestBengal
#WestBengalPolitics #PoliticalNews #BreakingNews #MedinipurLive #PaschimMedinipur
#BengalPolitics #TrendingNews #KharagpurNews #BanglaNews

কোন মন্তব্য নেই