মেদিনীপুর:মেদিনীপুর হাসপাতালে চিকিত্সা বিভ্রাটে প্রসুতি মৃত্যু কান্ডে সাসপেন্ড হওয়া ১৩ জন চিকিত্সকের ১১ জন সাসপেনশন মুক্ত ৷ কাজে যোগ দিলেন তত্কালীন সাসপেন্ড হওয়া হাসপাতাল সুপার জয়ন্ত রাউত ৷ শুক্রবার নির্দেশ পাওয়ার পরেই মেদিনীপুর …
মেদিনীপুর: মেদিনীপুর হাসপাতালে
চিকিত্সা বিভ্রাটে প্রসুতি মৃত্যু কান্ডে সাসপেন্ড হওয়া ১৩ জন চিকিত্সকের ১১ জন
সাসপেনশন মুক্ত ৷ কাজে যোগ দিলেন তত্কালীন সাসপেন্ড হওয়া হাসপাতাল সুপার জয়ন্ত
রাউত ৷ শুক্রবার নির্দেশ পাওয়ার পরেই মেদিনীপুর হাসপাতালে হাজির হন জয়ন্ত বাবু ৷
এই ঘটনায় পুরো দোষ চিকিত্সকদের থেকে সরে গিয়ে হল ব্যান থাকা স্যালাইনের নামে ৷
ঘটনার পরে বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর গুছাইতের দাবি- “এটা আমাদের
কাছে বড়ো সাফল্য ৷কোলাঘাটের বৈঠকে আমাদের সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করে
বিষয়টি পুনরায় রি-ওপেন করেছিলাম ৷ স্যালাইনের দোষ চাপানো হয়েছিল অনুপস্থিত
চিকিত্সকদের নামে ৷ স্যালাইন সরবরাহকারীদের আড়াল করা হয়েছিল ৷আমি দেখা করে
ডাক্তারবাবুদের ধন্যবাদ জানিয়ে মাথা উঁচু করে পরিষেবা দিতে অনুরোধ করেছি৷”
২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি রাতে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সিজার করার সময়ে
একসাথে ৫ প্রসূতির শারিরীক অবস্থায় অবনতি হয় ৷ কোনো এক ভূলের কারনে পরপর ৫ জনের পরিস্থিতি
সঙ্কটময় হয় ৷ মারাও গিয়েছিলেন এক প্রসূতি এবং এক শিশুও৷ বাকিদের পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক
তৈরী হয় ৷ ঘটনায় তোলপাড় পরিস্থিতি তৈরী হয়েছিল রাজ্য জুড়ে ৷ চিকিত্সায় গাফলতির অভিযোগ
সহ সেই সময় ব্যান করা রিঙ্গার ল্যাকটেট
স্যালাইন ব্যবহারে তার বিষাক্ত পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া-র অভিযোগ উঠেছিল ৷ঘটনার তদন্তে নামে বিশেষ তদন্তকারি দল ৷ঘটনার
সময়ে সিনিয়ার চিকিত্সকদের অনুপস্থিতি সহ নানা অভিযোগে সিনিয়ার জুনিয়ার চিকিত্সক মিলিয়ে
১৩ জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল ৷ পরে ৭ জন জুনিয়ার পিজিটি-র সাসপেনশন
তুলে নেওয়া হয়ে ছিল ৷ বাকি ছিলেন ততকালীন হাসপাতাল সুপার জয়ন্ত রাউত সহ ৬ জন ৷ সেই
সময় থেকে সাসপেন্ড থাকাকালীন অবস্থায় অবসর গ্রহন করেছিলেন প্রসূতি বিভাগের প্রধান মহম্মদ
আলাউদ্দিন ৷ সাসপেন্ড থাকায় তাঁর অবসরকালীন সুবিধা তিনি পাচ্ছিলেন না৷ অবশেষে সেই হাসপাতাল
সুপার জয়ন্ত রাউত সহ আলাউদ্দিন বাবু ও বাকি দুজনের সাসপেনশন প্রত্যাহার করা হল বর্তমান
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ৷বাকি রয়েছেন আরও ২ জন৷ গত বুধবার তাঁর সাসপেনশন
প্রত্যাহার করে নেয় স্বাস্থ্য দপ্তর। সেই নির্দেশ এসেছে মেদিনীপুর মেডিক্যালের আধিকারিকদের
কাছে ৷ স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, মহম্মদ আলাউদ্দিন যে ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি থেকে তাঁর
চাকরির মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সাসপেন্ড ছিলেন,
সেই সময়টাকে ‘কর্তব্যরত সময়কাল’ ধরা হবে। ফলে এই সময়ের জন্য
তিনি পূর্ণ বেতন ও ভাতা পাওয়ার অধিকারী। পাশাপাশি অবসরকালীন পেনশন এবং যাবতীয়
সরকারি সুবিধেও পাবেন। । সাসপেন্ড হয়ে থাকা ডাক্তাররা শুক্রবার মেদিনীপুর মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালে কাজে যোগ দেন । তাদের সাথে দেখা করতে হাজির হয়েছিলেন মেদিনীপুরের বিধায়ক
শঙ্কর গুছাইত ৷
এদিন কাজে যোগ দেওয়ার মুহুর্তে জয়ন্ত রাউত বলেন-“ আমি ঘটনার সময়ে ছুটিতে ছিলাম ৷ অথচ আমাকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল
৷ আজ সাসপেনশন তুলে নেওয়া হয়েছে ৷ কাজে যোগ দিলাম ৷ ”
তবে এই কান্ডে কে দায়ী, বা তাদের শাস্তি কি হল তা বোঝা গেল না শেষ পর্যন্ত ৷ প্রান হারালেন এক প্রসূতি সহ সদ্যজাত ৷ সেই দুর্বিসহ ঘটনার রেস রয়েছে এখনও বাকি প্রসূতিদের শরীরে ৷
#MedinipurMedicalCollege #MedinipurHospital #BreakingNews #WestBengalNews
#DoctorSuspension #JayantaRaut #MedicalNegligence #ShankarGuchhait
#HealthDepartment #MidnaporeLive #PaschimMedinipur#BengalPolitics #HospitalNews
#TrendingNews #BanglaNews

কোন মন্তব্য নেই