মেদিনীপুর: প্রায় ৮ বছর ধরে চলছে অম্রুত প্রকল্পের কাজ। তবুও নাকি শেষ হয়নি! কেন্দ্রীয় সরকারের প্রায় ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের এই প্রকল্পে কাজের প্রকৃত লক্ষ্য ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অনেকেই! তাই সরকার পরিবর্তন হতেই সটান মু…
মেদিনীপুর: প্রায় ৮ বছর ধরে চলছে অম্রুত প্রকল্পের কাজ। তবুও
নাকি শেষ হয়নি! কেন্দ্রীয় সরকারের প্রায় ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের এই প্রকল্পে
কাজের প্রকৃত লক্ষ্য ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অনেকেই! তাই সরকার পরিবর্তন
হতেই সটান মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে অভিযোগ করেছেন মেদিনীপুরের
একদল বাসিন্দা। জানিয়েছেন –“কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রকল্পে
দায়িত্বে থাকা আধিকারিক জনপ্রতিনিধিরা চরমভাবে আর্থিক তছরুপ করেছে । কেন্দ্রীয়
সরকারের প্রকল্পের টাকা নয় ছয় হয়েছে!” এমন অভিযোগ পাওয়ার
পরেই মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে তদন্তের নির্দেশ। মেদিনীপুরের অম্রুত প্রকল্পের কাজ
কতদুর কি হয়েছে! সত্যিই তছরূপ হয়েছে
কিনা তা দেখার জন্য বৃহস্পতিবারই জেলা প্রশাসনের কাছে নোটিশ আসে। শুক্রবার দুপুরেই
সেই মতো তদন্তকারী আধিকারিকরা পৌঁছে গেলেন মেদিনীপুরের গান্ধীঘাটে অম্রুত
প্রকল্পের স্থানে। পুরো প্রস্তাবিত প্রকল্প চত্বর ঘুরে দেখলেন মেদিনীপুর পৌরসভার
পৌর প্রধান সৌমেন খানকে সঙ্গে নিয়ে। প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে পুরো সবকিছু
খতিয়ে দেখে বৈঠক করেন মেদিনীপুর সার্কিট হাউসে।
উল্লেখ করা যায়, মেদিনীপুর শহরের পাশে থাকা কংসাবতী নদীর ধারে গান্ধীঘাট
এলাকায় এই অম্রুত প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল প্রায় আট বছর আগে। ২০১৬ সালে এজন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দ করা হয়েছিল
প্রায় ২০০ কোটি টাকা ৷ মূল লক্ষ্য ছিল মেদিনীপুর পৌর এলাকার ৫৪
হাজার পরিবারকে পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া। পুরনো পদ্ধতিতে পানীয় সরবরাহে
যে পরিমাণ পানীয় জল নষ্ট হয় তা বন্ধ করা। এই প্রকল্পে একেবারে পরিশ্রুত "আর
ও" স্তরের বিশুদ্ধ পানীয় শহরে নাগরিকদের বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছানোর লক্ষ্য
নেওয়া হয়েছিল। সেই লক্ষ্যে অত্যাধুনিক মানের পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহের
রিজার্ভার তৈরির কাজ শুরু হয়। তিন বছরের মধ্যে কাজ শেষ হবে এমন লক্ষ্য নিয়ে কাজ
শুরু করলেও, আট বছর পরেও সেই কাজ শেষ হয়নি। ৫৪ হাজার পরিবারের কাছে সেই
পানীয় জল দেওয়ার একটা
লিমিট ছিল। প্রতিটি সংযোগের শেষ প্রান্তে একটি করে মিটার লাগানো হয়েছিল। যেখানে
নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি অতিরিক্ত পানীয় জল কেউই নিতে
পারবেন না। লক্ষ্য ছিল পানীয় জলের অপব্যবহার বন্ধ করা। সেই প্রকল্পের
কাজ খুব ধীরগতিতে চলছিল। শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রধান রাস্তা
খুঁড়ে তার তলা দিয়ে এই বিশাল পাইপলাইন পাঠানো হচ্ছিল। মেদিনীপুর শহরে প্রায় ৩০০
কিলোমিটার এমন পাইপ বিছানো লক্ষ্য মাত্রা নেওয়া হয়েছিল। এই প্রকল্পের জন্য
মেদিনীপুর শহরের বেড়বল্লভপুর, মাহাতাবপুর, কুইকোটা, রাজাবাজার,জজকোর্ট,রাঙ্গামাটি এলাকায় সাতটি নতুন ওভারহেড রিজার্ভার তৈরি
হয়েছে।গান্ধী ঘাট থেকে নদী থেকে তোলা পানীয় জল পরিশ্রুত করে পাইপ লাইনের
মাধ্যমে এই ওভারহেড রিজার্ভারে পাঠানো হবে ৷সেখানে থেকে যাবে বাড়িতে বাড়িতে ৷ তবে এই কাজ এত ধীর গতিতে হচ্ছিল যে কাজের লক্ষ্য ও পরিণতি নিয়ে সংশয়
প্রকাশ করেছিলেন মেদিনীপুর শহরের বাসিন্দারাই । তাই অভিযোগ করা হয়েছিল একেবারে
মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে। সেইমতো বৃহস্পতিবার দুপুরে মেদিনীপুরে জেলা প্রশাসনের কাছে
একটি নোটিশ আসে অতিরিক্ত মুখ্যসচিব এর
দপ্তর থেকে। আর্বান ডেভেলপমেন্ট এন্ড মিউনিসিপ্যাল
অ্যাফেয়ার্স বিভাগের সচিব নন্দিনী ঘোষ জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের নাম পদ উল্লেখ
করে তদন্তের দায়ীত্ব দেন। ১৫ ই জুনের মধ্যে তদন্তের রিপোর্ট
জমা করতে বলা হয়।
সেইমতো শুক্রবার দুপুরেই তদন্ত শুরু
হয়ে যায় ৷ হঠাত কলকাতা ও বিভিন্ন স্থান থেকে তদন্তের নির্দেশ পাওয়া আধিকারিকরা হাজির
হয়ে যান মেদিনীপুরে ৷ কয়েক ঘন্টা ধরে গান্ধীঘাটের পুরো প্রকল্প চত্বর ঘুরে বৈঠক করলেন তদন্তকারীরা।
তদন্তকারী দলে উপস্থিত ছিলেন মেদিনীপুর সদর মহকুমা শাসক,
প্রকল্পের এএমডি, এই প্রকল্পের চিফ ইঞ্জিনিয়ার,
কেএমডি এর চিফ ইঞ্জিনিয়ার প্রমুখেরা। ছিলেন প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে
দায়িত্বে থাকা মেদিনীপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গিয়েছে, ৩০০ কিলোমিটার পাইপ বিছানোর যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল, ইতিমধ্যে তার ২৮৬ কিলোমিটার কাজ হয়ে গিয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে পুরো প্রকল্প শেষ করে সমস্ত বাড়িতে পানীয় জল সরবরাহ সম্ভব হবে।তবে আধিকারিকরা তদন্ত করে কি পেলেন তা তাঁরা জানান নি ৷ সংবাদ মাধ্যমের সামনে কোনো প্রকার মুখ খোলেন নি ৷
#Medinipur #AMRUTProject #BreakingNews #WestBengalNews #CorruptionAllegation #WaterProject #MedinipurLive #BanglaNews #Investigation #200CroreProject #GandhiGhat #MunicipalityNews #BengalPolitics #ViralNews #LatestNews

কোন মন্তব্য নেই