শালবনি: তিন বছর বন্ধ থাকার পর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা জুড়ে ২১১ টি গ্রাম পঞ্চায়েতে শুরু হল ১০০ দিনের প্রকল্পের কাজ। তবে নাম পাল্টে গিয়েছে। সরকার পাল্টানোর সাথে সাথে এই প্রকল্পের নাম পাল্টে হয়েছে ভিবজি রামজি। একশ দিনের পরিবর্তে ক…
শালবনি: তিন বছর বন্ধ থাকার পর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা জুড়ে ২১১
টি গ্রাম পঞ্চায়েতে শুরু হল ১০০ দিনের প্রকল্পের কাজ। তবে নাম পাল্টে গিয়েছে।
সরকার পাল্টানোর সাথে সাথে এই প্রকল্পের নাম পাল্টে হয়েছে ভিবজি রামজি। একশ দিনের
পরিবর্তে কাজ এবারে হবে ১২৫ দিন। সেই কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হলো একসময়ের
মাওবাদী উপদ্রুত জঙ্গলমহলের শালবনী থানার অন্তর্গত পাথরি এলাকায়। নিজে হাতে মাটি
খুঁড়ে তার উদ্বোধন করলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের অতিরিক্ত জেলা শাসক সুকান্ত দাস। উদ্বোধন হওয়ার সাথে সাথে জেলার ২১১ টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতে এই কাজ
শুরু হয়েছে।
এই এলাকাকে বেছে নেওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। জঙ্গলমহলের এই
এলাকার লোকজনের রোজগার যে কয়েকটি পদ্ধতিতে হয়ে থাকে তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিল
এই ১০০ দিনের কাজ। স্থানীয় অনুর্বর জমিতে কোনোভাবে একবার চাষ করলেও হাতির
হামলাতে সেই চাষ নষ্ট হয়ে যায় প্রতিবারই। তাই জঙ্গলমহলের
লোকেরা জঙ্গল থেকে শাল পাতা সংগ্রহ করে শহরে গিয়ে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে
থাকেন। কেউ কেউ কিছুটা জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করে বিক্রি করেও জীবিকা নির্বাহ করেন। এর বাইরে তেমন কোন রোজগারের রাস্তা নেই। তাদের জন্য ১০০ দিনের কাজ একটা
গুরুত্বপূর্ণ রোজগারের উপায় ছিল। কিন্তু কেন্দ্র রাজ্য সংঘাতের কারণে ২০২৩ সাল
থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এই প্রকল্প। রোজকারের একটা
গুরুত্বপূর্ণ অংশ হারিয়েছিলেন জঙ্গলমহলের বাসিন্দারা। এরপরে রাজ্য সরকারের
পরিবর্তন হতেই পুরনো জটিলতা কাটিয়ে শুরু হলো সেই প্রকল্প।
অতিরিক্ত জেলাশাসক সুকান্ত দাস জানিয়েছেন, -জঙ্গলমহলের এই এলাকার মানুষদের জন্য একটি বৃষ্টির জল সংরক্ষণ খাল তৈরি করা
হচ্ছে। ১৯ লক্ষ ৬৭ হাজার টাকায় সেই খাল তৈরীর কাজ হবে।এটা
করতে সাত হাজার শ্রমদিবস তৈরি করা হবে। ফলে
স্থানীয় বাসিন্দারা অনেকেই কাজ পাবেন এখান থেকে।
তবে এই কাজ করতে গিয়ে কোনরকম দুর্নীতির আর সুযোগ নেই বলেই দাবি করলেন
প্রশাসনিক আধিকারিকরা। আগে অনেকেই জব কার্ড অন্য লোক রেখে দিয়ে সেই কাজের টাকা
তুলে নিতেন। আর কাজের জায়গাতে জেসিবি লাগিয়ে
কাজকরে দেওয়া হত ৷ এখন যে ব্যক্তির নামে জব কার্ড সেই ব্যক্তি
কর্মস্থলে গিয়ে উপস্থিত হওয়ার পর কাজের দায়িত্বে থাকা লোকেরা মোবাইলের অ্যাপের
মাধ্যমে জব কার্ড হোল্ডার এর মুখের ছবি স্ক্যান করলে তবেই তার কাজের অনুমতি মিলবে।
ফলে একজনের নামের কাজ অপরজন করার সুযোগ পাবেন না। এই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ গ্রাম
পঞ্চায়েত থেকে একেবারে দিল্লি পর্যন্ত করার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষিত টিম তৈরি করা
হয়েছে। কে কাজ করছে, কতখানি করেছে সত্যিই করেছে কিনা সবটাই অফিসে বসেই দেখতে
পেয়ে যাবেন দায়িত্বে থাকা আধিকারিকেরা। তারপরেও কোথাও দুর্নীতির সুযোগ থাকলে
কমপ্লেন মনিটরিং সেল এর মাধ্যমে দেখা হবে বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
জঙ্গলমহলের বাসিন্দারা জানালেন, এই কাজটা তাদের জন্য বিশাল এক উপকার দেবে। কারণ এই মুহূর্তে জঙ্গলমহলের বাসিন্দাদের কাছে কোন চাষ সুরক্ষিত নয়। যেকোনো চাষ করতে গেলেই হাতির হামলায় শেষ হয়ে যাবে। জঙ্গলে গিয়ে কাঠপাতা সংগ্রহ করাও মৃত্যুর সমান। হাতির হামলায় প্রাণ যাচ্ছে অনেকের। তাই শহরে গিয়ে শ্রমিকের কাজ করতে হচ্ছিল লোকজনকে। এবার এই প্রকল্পের কাজ শুরু হলে সকলেই উপকৃত হবেন।
#১০০দিনেরকাজ #VGJRamji #জঙ্গলমহল #শালবনী #পশ্চিমমেদিনীপুর #গ্রামীণকর্মসংস্থান
#বাংলাখবর #WestBengalNews #PaschimMedinipur #MedinipurLive #GovernmentScheme
#BreakingNews #EmploymentNews #VillageNews #BengalPolitics
একশো দিনের কাজ ১০০ দিনের কাজ চালু VGJ Ramji Project ভিবজি রামজি প্রকল্প পশ্চিম মেদিনীপুর শালবনী খবর Junglemahal News Paschim Medinipur News Sukanta Das ADM জঙ্গলমহল গ্রামীণ কর্মসংস্থান Job Card News মুখ স্ক্যান জব কার্ড Rural Employment Scheme Bengal Government Scheme West Bengal News Today Medinipur Live শালবনী বাংলা খবর

কোন মন্তব্য নেই