শালবনি: করণা ভাইরাসের উপদ্রব নেই। অনুকূল আবহাওয়া পেয়ে এবার শালবনীর জঙ্গলমহলে থাকা বনোদেবী তথা বামুনবুড়ির পুজোতে প্রথম দিনই হাজির হলেন কয়েক লক্ষ মানুষ। মন্দির সংলগ্ন এলাকায় সাজানো হলো এক লক্ষের বেশি প্রসাদে ভরা মালসা। আপাতত এ…
শালবনি: করণা ভাইরাসের উপদ্রব
নেই। অনুকূল আবহাওয়া পেয়ে এবার শালবনীর জঙ্গলমহলে থাকা
বনোদেবী তথা বামুনবুড়ির পুজোতে প্রথম দিনই হাজির হলেন কয়েক লক্ষ মানুষ। মন্দির
সংলগ্ন এলাকায় সাজানো হলো এক লক্ষের বেশি প্রসাদে ভরা মালসা। আপাতত এই পুজো
উপলক্ষে মেলা চলবে ৫ দিন ধরে।থাকছে নানা অনুষ্ঠানের ঘনঘটা ৷
লক্ষাধিক ভিড়ের সমাগমে শুরু হল
জঙ্গলমহলের ঐতিহ্যবাহী বামুনবুড়ি (সন্ন্যাসীমাতা) মেলা। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার
পিড়াকাটার পাড়ুরাইমা গ্রামে প্রতিবছর বাংলার ৩ মাঘ এই পূজা হয়ে থাকে। যার মূল
আকর্ষণ সুসজ্জিত ভোগ মালসা। কয়েকদিন ধরে চলে
মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।জঙ্গলমহলের লোকজনের পুরনো বিশ্বাস-দেবীর কাছে
মানত করলে সমস্ত সমস্যার সমাধান পাওয়া যায় ৷ তাই জঙ্গলমহল তো বটেই , শহুরে এলাকার
লোকজনও ভীড় করে জঙ্গলের গভীরে থাকা এই দেবীর আশীষ পেতে ৷ আর মনোষ্কামনা পুর্ণ
হলেই মানত শোধ করতে- বিভিন্ন সংখ্যার চিড়ে ও ফলে ভরা প্রসাদ মালসা সাজানো হয়
দেবীর মন্দির চত্বরে ৷ এবার ভক্তদের সেই মানতের মালসা বুধবার দুপুরের মধ্যেই
সাজানো হয়েছিল প্রায় এক লক্ষের বেশি৷
গত দু'বছর
ঐতিহ্যে বাধা ছিল করোনার। গত বছর পাঁচদিনের মেলা কমিয়ে একদিন করা হয়েছিল। সেসব
কাটিয়ে স্বাভাবিক ছন্দে বুধবার পূজা ঘিরে ভিড় দেখা গিয়েছিল ভক্তদের। মন্দিরের
চারিদিকে মালসা সাজানোর ঐতিহ্য বহাল। ভক্তরা পুজো দেওয়ার জন্য উপকরণ সাজিয়ে মাটির
যে মালসা দিয়েছে তা এক লক্ষাধিক। এদিন সকাল থেকে পুজো শুরু হলেও মালসা বিতরণ করা
হয় বিকেলে। সারাদিন ধরে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মানুষজনের ব্যাপক ভিড়। পুজো
কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত দু'বছর করোনা পরিস্থিতির জন্য যাঁকজমক ভাবে কিছু করা যায় নি। এবছর স্বাভাবিক
হতেই আয়োজন করা হয়েছে। ভিড় সামাল দিতে নানা রকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই