মেদিনীপুর: আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর ব্লকের আনন্দপুরে সমাবেশ করতে উপস্থিত হচ্ছেন অভিষেক ব্যানার্জি। গোষ্ঠী কোন্দলে জর্জরিত কেশপুরে সমাবেশের আগে বৈঠক করে কেশপুর আনন্দপুর সহ বিভিন্ন এলাকার কর্মীদের চূড়ান্ত হুঁশ…
মেদিনীপুর: আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি
পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর ব্লকের আনন্দপুরে সমাবেশ করতে উপস্থিত হচ্ছেন অভিষেক
ব্যানার্জি। গোষ্ঠী কোন্দলে জর্জরিত কেশপুরে সমাবেশের আগে বৈঠক করে কেশপুর
আনন্দপুর সহ বিভিন্ন এলাকার কর্মীদের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিলেন নেতারা। মেদিনীপুর
শহরে কেশপুরের ও জেলার কর্মীদের ডেকে রাজ্য নেতৃত্বের হুঁশিয়ারি-" গোষ্ঠী
কোন্দল থামান, দলের কথা বাইরে বলা চলবে না। নিয়মের অন্যতা হলে যত
বড়ই নেতা হোক শোনানো হবে 'মিউজিক' "।
কেশপুরের আনন্দপুর বিদ্যালয় মাঠে
এই সমাবেশের স্থান প্রস্তুত করা হচ্ছে। তৃণমূলের পরিকল্পনা অনুযায়ী
দাবি-পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে প্রায় ২ লক্ষ মানুষের উপস্থিতি দিয়ে বৃহৎ সমাবেশ
করা হবে। কিন্তু এই মুহূর্তে কেশপুর ও আনন্দপুর এই তৃণমূলের কর্মীরা চরম গোষ্ঠী
কোন্দলে জর্জরিত। গত দু মাসে বহুবার বোমাবাজি, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের
ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে ২ লক্ষ মানুষের সমাবেশ করতে কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে
প্রস্তুতি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল বৃহস্পতিবার মেদিনীপুর শহরে। সেখানে পশ্চিম
মেদিনীপুর জেলার সমস্ত কর্মীদের নিয়ে এক প্রস্থ বৈঠক করার পর, কেশপুর ব্লকের সমস্ত নেতাকর্মীদের নিয়ে আরেকবার বৈঠক করতে হয়েছে এদিনই।
যেখানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্বদের মধ্যে মানস রঞ্জন ভূঁইয়া,
ছিলেন কেশপুরের বিধায়িকা শিউলি সাহা, তৃণমূলের
জেলা কো-অর্ডিনেটর অজিত মাইতি সহ জেলার শীর্ষ নেতৃত্বরা।
তৃণমূলের জেলা কো-অর্ডিনেটর অজিত
মাইতি বলেন-" বৈঠক করে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২ লক্ষ মানুষ উপস্থিত
হবে। বিজেপির কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি পাঠাক আর যাই চক্রান্ত করুক তৃণমূলের
কর্মসূচিতে কোন প্রভাব পড়বে না। তবে সম্প্রতি কেশপুর নিয়ে সংবাদ শিরোনামে বারবার
আসছিল,
সেটা নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।"
অনেকে মনে করছেন পঞ্চায়েত
নির্বাচনের আগে গোষ্ঠী কোন্দলে জর্জরিত কেশপুরে অভিষেক ব্যানার্জীর উপস্থিতি দিয়ে
ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করছে তৃণমূল। এই প্রসঙ্গে শিউলি সাহা বলেন-"
কেশপুর আসলে আন্দোলনের স্থান, জেলার মধ্যে কেশপুর গুরুত্বপূর্ণ
এলাকা। তাই কেশপুর কে এই সমাবেশের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।"
তবে বৃহস্পতিবারের দুটি বৈঠকেই
তৃণমূলের রাজ্য নেতা মানস রঞ্জন ভুঁইয়া কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সকলকে। তিনি
বলেন- " দলের মধ্যে কোন সমস্যা হলে দলের সঙ্গে কথা বলে মেটাতে হবে। বড় সংসার
আমাদের। সেখানে খুনসুটি হতে পারে । তবে আঁচড়া আঁচড়ি হবে না। এরপর থেকে আমরা শপথ
নিচ্ছি কোন কোন্দল বাদ দিয়ে বিজেপি ও সিপিআইএমের বিরুদ্ধে লড়াই করব। এর
অন্যথা করলে এবং দলের কথা বাইরে বললে, তাকে মিউজিক শুনতে হবে এবার। "

কোন মন্তব্য নেই