মেদিনীপুর: মেদিনীপুর শহরের কেরানিচটি এলাকার এক গৃহবধূ সন্তান প্রসবের পর সম্প্রতি বাড়ি ফিরেছিলেন। সোমবার বিকেলে হঠাৎ তার সেলাই কেটে যায় বাড়িতে, দ্রুত টোটো ডেকে ঐ বধু ও তার মা মেদিনীপুর হাসপাতালের দিকে রওনা দিয়েছিলেন। মেদিনীপুর…
মেদিনীপুর: মেদিনীপুর শহরের
কেরানিচটি এলাকার এক গৃহবধূ সন্তান প্রসবের পর সম্প্রতি বাড়ি ফিরেছিলেন। সোমবার
বিকেলে হঠাৎ তার সেলাই কেটে যায় বাড়িতে, দ্রুত টোটো ডেকে
ঐ বধু ও তার মা মেদিনীপুর হাসপাতালের দিকে রওনা দিয়েছিলেন।
মেদিনীপুর শহরে প্রধান রাস্তা ধরে এলআইসি মোড় আসতেই অটোচালকরা রাস্তা আটকে দেয়।
রোগীর পরিবারের লোকেরা চেঁচামেচি করে দ্রুত পরিস্থিতি
বোঝালেও, সেসব না শুনে "অটোর রাস্তায় কেন টোটো?"তা নিয়ে অকথ্য গালাগাল ও মারধর চলে টোটো চালককে। বেশ কিছুক্ষণ ধরে এই
কাণ্ড চলায় রোগিনী আরও অসুস্থ হয়ে
পড়ে।পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পরে সেখান থেকে পালায় অটো চালকেরা৷ কোনভাবে সেখান থেকে উদ্ধার হয়ে হাসপাতালে এমারজেন্সিতে ভর্তি করতে হয় ওই বধূকে। তারপরেই আইনজীবী নিয়ে কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ
দায়ের করলেন ওই বধূর পরিবার।
সোমবার সন্ধ্যা নাগাদ এই ঘটনাটি
ঘটেছে মেদিনীপুর
শহরের জেলাশাসকের বাংলো সংলগ্ন প্রধান রাস্তার উপরে এলআইসি মোড়
এলাকায়। কেরানিচটি এলাকার গৃহবধূ তাপসী ঘরামি-র সন্তান প্রসবের পর বাড়ি
ফিরেছিলেন সম্প্রতি। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যায় কোন কারনে সেলাই কেটে গিয়ে
রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছিল। তার মা রিংকু ঘরামী দ্রুত তাকে পাশেই পাওয়া একটি টোটোতে
তুলে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। হাসপাতালে ঢোকার কিছুটা আগেই এলআইসি মোড় এলাকাতে অটোচালকরা সেই টোটোকে আটকে চরম হেনস্থা শুরু করে বলে অভিযোগ।
যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন ও কাঁদছিলেন রোগী। টোটো চালক ও
রোগিনীর মা বারবার অটোচালকদের বললেও শোনেনি। টোটোতে বসিয়ে গালাগালি এবং টোটো
চালককে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। বেশ কিছুক্ষণে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কয়েকজন অটোচালক পালাতে শুরু
করে। ততক্ষণে অন্যান্যরা এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালের পথে পাঠায়। দ্রুত
রোগিনীকে মেদিনীপুর হাসপাতালে ভর্তি করে ব্যাবস্থা নেওয়া শুরু হয় ৷ এরপই সকলেই আইনজীবি নিয়ে হাজির হয় কতোয়ালী থানাতে
৷
ওই বধুর মা রিঙ্কু ঘরামি
বলেন-" আমার মেয়ের অবস্থা খারাপ বারবার বলার পরেও ওরা শোনেনি। টোটো আটকে গালাগাল
হেনস্থা চলল। ওরা জানায় অন্য টোটো ধরে চলে যান। কিন্তু রোগী নিয়ে আমি অন্য
টোটোতে যেতে পারিনি। এই গুন্ডামির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আমি আইনজীবী নিয়ে
কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ জানিয়েছি"।
টোটচালক আব্দুল তাহের বলেন-"
একটা এমার্জেন্সি রোগীকে নিয়ে দ্রুত আমাকে হাসপাতালের পথে যেতে হচ্ছিল। ওরা আমাকে
কোন কথা না শুনে আটকে রেখে মারধর করলো। রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে দেখে পরে
ছেড়ে পালায়। অটো চালকদের এই আক্রমণটা নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে
মেদিনীপুর শহরে। আমি পুলিশকে সব জানিয়েছি।"
রাতেই আইনজীবী হিমাদ্রি মিত্র কে
নিয়ে কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ওই পরিবার। আইনজীবী হিমাদ্রি
মিত্র বলেন -" আমরা অভিযোগ জানিয়েছি পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়ে। পুলিশের নজরে
বিষয়টি এসেছিল ইতিমধ্যেই। আমরা লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা
নিচ্ছে বলে জানিয়েছে আমাদের।"

কোন মন্তব্য নেই