ঘাটাল: আবাস প্লাস তালিকা যাচাই পর্ব সম্পন্ন করতে গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসেই গোপনে নাকি শাসক দলের পক্ষ থেকে গ্রাম সংসদ সভা করা হয়েছে। প্রতিবাদে-গ্রাম পঞ্চায়েতের অফিসেই প্রতিবাদী পোস্টার গ্রামবাসী বৃন্দের নাম করে।সোমবার ঘটনাটি ঘটেছে …
ঘাটাল: আবাস প্লাস তালিকা যাচাই পর্ব সম্পন্ন করতে গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসেই গোপনে নাকি শাসক দলের পক্ষ থেকে গ্রাম সংসদ সভা করা হয়েছে। প্রতিবাদে-গ্রাম পঞ্চায়েতের অফিসেই প্রতিবাদী পোস্টার গ্রামবাসী বৃন্দের নাম করে। সোমবার ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল মহকুমার সুলতানপুর এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে। শাসকদলের দাবি "বিজেপির অঙ্গুলী হেলনে এইসব হচ্ছে"।
পশ্চিম মেদিনীপুরের সমস্ত এলাকা থেকেই আবাস প্লাস তালিকা বিডিও অফিসে জমা দেওয়ার আগে উপভোক্তাদের নিয়ে গ্রাম সংসদ সভা করার নিয়ম। সেইমত অনেক স্থানে গ্রাম সংসদ সভা করার পর সম্মিলিত স্বাক্ষর নিয়ে সেই তালিকা জমা হচ্ছে। জেলার চন্দ্রকোনা এলাকার মনোহরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে এই গ্রাম সংসদ সভা করতে গিয়ে কয়েকদিন আগে তালিকা দুর্নীতির প্রতিবাদে উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সংসদ সভাটাই বাতিল হয়েছিল সেদিন উত্তেজনার কারণে। এমন পরিস্থিতি এড়াতে গোপনে গ্রাম সংসদ সভা করা হয়েছে শাসকদলের পক্ষ থেকে বলে অভিযোগ উঠল ঘাটালে। তারই প্রতিবাদে সুলতানপুর গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে সোমবার সকাল থেকে একাধিক প্রতিবাদী পোস্টারে ছয়লাপ করে দেওয়া হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে-" মাইকিং করে সকলকে জানিয়ে সংসদ সভা করতে হবে" "অবিলম্বে উপভোক্তাদের তালিকা প্রচার করতে হবে।" "গ্রামবাসীদের নিয়েই গ্রাম সংসদ সভা করতে হবে"-প্রভৃতি।
ঘাটালের সুলতানপুর গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে এমন ঘটনাটা ঘটেছে নাকি শুক্রবার। ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা মলয় খাঁ বলেন- " গত শুক্রবার শাসকদলের গুটি কয়েক লোক জনকে নিয়েই প্রকাশ্যে নয়, গোপনে গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ের ভিতরেই বৈঠক করে গ্রাম সংসদ সভা করে ফেলা হয়েছে। সেই তালিকা জমা দেওয়ার পথে। গ্রামবাসীদের না জানিয়ে নিজেদের কারচুপি ঢাকতে এই কাজ করা হয়েছে। ধনীরাই এই বাড়ি পাচ্ছে, গরিবেরা কিছুই পাচ্ছে না।"
এই বিষয়ে এলাকার বিজেপি নেতা কৌশিক জানা বলেন-" মাইক প্রচার না করে গ্রাম সভা করা হয়েছে। আবাস যোজনার তলিকায় পাকা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও অনেক ব্যক্তির নাম রয়েছে। অথচ প্রকৃত বাড়ি প্রাপকদের নাম নেই। পরিস্থিতি ঢাকতে গোপনে শাসকদলের সদস্যদের নিয়ে গ্রাম সভা করা হয়েছে। খবর পেয়ে কয়েকজন সেখানে পৌঁছালেও তাদের পাত্তা দেওয়া হয়নি।"
এপ্রসঙ্গে পঞ্চায়েত সদস্যরা কিছু না বললেও, ঘাটাল ব্লক তৃণমূলের সভাপতি দিলীপ মাঝি
বলেন-" এ সমস্ত উস্কানিমূলক কাজকর্ম বিজেপির পক্ষ থেকে করানো হচ্ছে। আমরা
গ্রামবাসীদের সতর্ক থাকতে অনুরোধ করেছি। যারা প্রকৃত প্রাপক তাদেরই নাম তালিকায়
রয়েছে।"


কোন মন্তব্য নেই