এনায়েতপুর: জঙ্গলে খাবার এমনিতেই কমে গিয়েছে বিশাল পরিমাণ হাতির পালের চাপে। তাছাড়া যেটুকু অবশিষ্ট রয়েছে তাতে অরুচ হাতিদের, খাদ্যাভাস পাল্টেছে। খাবারের খোঁজে তাই শনিবার ভোরে লোকালয়ে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ভাঙচুর করে ভেতরে থাকা চা…
এনায়েতপুর: জঙ্গলে খাবার এমনিতেই কমে গিয়েছে বিশাল পরিমাণ হাতির পালের চাপে। তাছাড়া যেটুকু অবশিষ্ট রয়েছে তাতে অরুচ হাতিদের, খাদ্যাভাস পাল্টেছে। খাবারের খোঁজে তাই শনিবার ভোরে লোকালয়ে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ভাঙচুর করে ভেতরে থাকা চাল বস্তা বের করে চাল খেলো হাতি। অপর একটি দল খাবারের খোঁজে ভাঙচুর চালালো মিষ্টি দোকানে। স্থানীয়দের আতঙ্ক-" পরের রাতে খাবারের খোঁজ হবে কোথায়!"
শনিবার ভোর চারটে নাগাদ বেশ কয়েকটি হাতি প্রবেশ করেছিল মেদিনীপুর সদরের এনায়েতপুর এলাকায়। লোকালয় সংলগ্ন পিচ রাস্তার ধারে বাজারে থাকা একের পর এক দোকান ও ঘরে খাবারের গন্ধ শুঁকার চেষ্টা করেছে তারা। শেষমেষ একটি মিষ্টির দোকানে মিষ্টি ও নানান খাবারের গন্ধ পেয়ে ভাঙচুর চালায়। মজবুত কাঠের দরজা ভাঙার পর ভেতরে কাঁচের মজবুত শোকেসটিকেও ভেঙে ফেলে। ততক্ষণে কোন ভাবে বুঝতে পেরে স্থানীয়দের চেঁচামেচিতে হাতির পাল এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়। তার আগেই মিষ্টি বা খাবার খাওয়ার সুযোগ না পেলেও ভেঙে ফেলেছে অনেক কিছুই।
অন্যদিকে আরও একটি হাতির পাল হাজির হয় গুড়গুড়িপাল এলাকায় লোকালয়ে থাকা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে। সেখানে প্রবেশ করে গন্ধ শুঁকেই বুঝতে পারে ভেতরে চালের বস্তা রয়েছে। দরজা ভেঙে ভেতরে থাকা চালের বস্তা টেনে বের করে কয়েকটি হাতি। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সামনে সেই বস্তার ছিঁড়ে প্রায় ৫০ কেজির বেশি চাল খেয়েছে হাতিগুলি। তারপর সেখান থেকে সরে তারা।
গত কয়েকদিন ধরে ঝাড়গ্রামের দিক থেকে প্রায় ১০০ টি হাতি প্রবেশ করেছে পশ্চিম মেদিনীপুরে। যেগুলি মেদিনীপুর সদর ,শালবনি, খড়গপুর রেঞ্জ এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে। হাতির পাল গুলি প্রতিদিনই কোন না কোন পিচ রাস্তা পার হয়ে বিভিন্ন লোকালয়ে ঘোরাফেরা করে। শনিবার ভোরে মেদিনীপুর সদরে তাণ্ডব করার পর স্থানীয়দের আশঙ্কা পরের রাতে আবার কোথাও না কোথাও ভাঙচুর ও হামলা করতে পারে খাবারের খোঁজে।

কোন মন্তব্য নেই