মেদিনীপুর: গত তিন বছর আগে বাড়িতে কাজ করার সময় বড়সড় বিদ্যুৎ শক পেয়েছিলেন যুবক। অনেক চিকিৎসা করিয়ে প্রাণ ফিরে পেয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু কানের শ্রবণ শক্তি ফিরে পাননি। বাংলাদেশের যুবক মুকলেসুর রহমান শ্রবণশক্তি ফিরে যেতে বাংলাদেশে…
মেদিনীপুর: গত তিন বছর আগে
বাড়িতে কাজ করার সময় বড়সড় বিদ্যুৎ শক পেয়েছিলেন যুবক। অনেক চিকিৎসা করিয়ে
প্রাণ ফিরে পেয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু কানের শ্রবণ শক্তি ফিরে
পাননি। বাংলাদেশের যুবক মুকলেসুর রহমান শ্রবণশক্তি ফিরে যেতে বাংলাদেশের নামিদামি
চিকিৎসকের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সবকিছু পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন একমাত্র
বিকল্প শ্রবণ মেশিন ছাড়া স্বাভাবিক শ্রবণ শক্তি আর ফিরে পাবে না সে। হতাশ
মুকলেসুর তার ভারতীয় আত্মীয়দের কাছে উন্নত চিকিৎসার কথা শুনেছিলেন। পাসপোর্ট
ভিসা করে মেদিনীপুর শহরে আত্মীয়দের বাড়িতে হাজির হয়েছিলেন। মেদনীপুর মেডিকেল
কলেজের চিকিৎসকদের দেখিয়ে হয় অপারেশন। বৃহস্পতিবার চেকআপের পর চিকিৎসক ও
মোকলেসুর উভয়েই জানায়-" শ্রবণশক্তি স্বাভাবিক হয়েছে"। ধন্যবাদ
জানালেন মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের।
বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার
চাঁপাইনবাবকুঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মোকলেসুর। বছর ২৮ এর ওই যুবক বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে
চরম আঘাত পেয়েছিলেন। চিকিৎসায় প্রাণ ফিরে পেলেও দুই কানের শ্রবণশক্তি
হারিয়েছিল। বাংলাদেশের সমস্ত চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছিলেন এর আর কোন চিকিৎসা
নেই। কানে শুনতে পেতে গেলে ব্যবহার করতে হবে বিশেষ মেশিন। এত কম বয়স থেকে এই
মেশিন ব্যবহার করা নিয়ে হতাশ হয়ে গিয়েছিল যুবক। অন্যদিকে দুই কানেই কিছু শুনতে
পাচ্ছিলেন না। চরম জটিল জীবনযাপন শুরু হয়েছিল। ভারতবর্ষে এর উন্নত চিকিৎসা রয়েছে
এমনটা শুনেছিলেন তার ভারতবর্ষের আত্মীয়দের কাছে। সেই মতো গত মাস তিনেক আগে
পাসপোর্ট ভিসা করে চিকিৎসার জন্য পশ্চিম মেদিনীপুরে হাজির হন। মেদিনীপুর শহরে তার
আত্মীয়ের বাড়িতে এসে উপস্থিত হয়েছিলেন।
আপনি ওকে সঙ্গে নিয়ে মেদিনীপুর
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইএনটি বিভাগের প্রধান ডাক্তার রবি হেমরমের সঙ্গে দেখা
করেন। ডাক্তারবাবু পুরো বিষয়টি দেখে জানিয়ে দেন-কানের ভেতরে থাকা বিশেষ হাড়ের
সমস্যা হয়েছে। চিকিৎসার পরিভাষায় যার নাম "অটোস ক্লোরাইসিস"। অপারেশন
করলে সুস্থ হওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেই মতো তিন মাস আগে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালে বিনামূল্যে ডান কানে অপারেশন হয়। এরপর পর্যবেক্ষণে ছিলেন ওই যুবক। তিন
মাস পর বৃহস্পতিবার ওই চিকিৎসকের দ্বারস্থ হয়ে তিনি জানান কানে আগের মতোই পুনরায়
সবকিছু স্বাভাবিক শুনতে পাচ্ছেন।
মোকলেসুর বলেন-" দুর্ঘটনার পর শ্রবণশক্তি
হারিয়ে হতাশ হয়ে গিয়েছিলাম। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন এর আর কোন চিকিৎসা নেই।
শুনতে হলে মেশিন লাগাতে হবে। চিন্তায় ছিলাম। মেদিনীপুরে আত্মীয়র বাড়িতে এসে
সমস্যার সমাধান হল। অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাবো ডাক্তারবাবুদের।"
এই অপারেশনের ক্ষেত্রে ডাক্তার
রবি হেমরমের সহযোগী অন্যতম ডাক্তার শুভন্ত ভৌমিক বলেন-" সমস্যাটি একটু জটিল ছিল।
অটোসক্লোরাসিস এর সমাধান হিসেবে অপারেশনের পরামর্শ দিয়েছিলেন আমাদের বিভাগের
অধ্যাপক ডাক্তার রবি হেমরম। সেইমতো অপারেশন করে সফল। ডানকানের শ্রবণ ক্ষমতা
স্বাভাবিক। এটা সফলতা আমাদেরও।"

কোন মন্তব্য নেই