কেশপুর: পশ্চিম মেদিনীপুরের দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আধিকারিক পরিবৃত হয়ে হঠাৎ প্রবেশ জেলা শাসকের। ঢুকেই খোঁজ নিলেন উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্যের, খতিয়ে দেখলেন শিক্ষকদের উপস্থিতি, খুঁজে দেখলেন সমস্ত খাতা, রেজিষ্ট্রার। পরপর দ…
কেশপুর: পশ্চিম মেদিনীপুরের দুটি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আধিকারিক পরিবৃত হয়ে হঠাৎ প্রবেশ জেলা শাসকের। ঢুকেই খোঁজ
নিলেন উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্যের, খতিয়ে দেখলেন শিক্ষকদের
উপস্থিতি, খুঁজে দেখলেন সমস্ত খাতা, রেজিষ্ট্রার। পরপর দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি দেখলেন জেলাশাসক।জেলাশাসক
জানান " মহামারী পর্বের পর পঠন-পাঠন পরিস্থিতি দেখতেই
এই পরিদর্শন।"
বৃহস্পতিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের
কেশপুরে আবাস যোজনা সম্পর্কিত বেশ কিছু তথ্য খতিয়ে দেখতে পরিদর্শনে বেরিয়েছিলেন
জেলাশাসক আয়েশা রানী। আবাস যোজনাতে থাকা বেশ কিছু ত্রুটি কতটা সংশোধন হয়েছে, প্রকৃত কি পরিস্থিতি তা খতিয়ে দেখতেই কেশপুরের বেশ কয়েকটি এলাকাতে
গিয়েছিলেন জেলাশাসক আয়েশা রানী। সেই কাজের মাঝেই অতর্কিতভাবে প্রবেশ করে ফেলেন
দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
প্রথম বিদ্যালয় ছিল কেশপুরের ‘অমলদা প্রাথমিক বিদ্যালয়’।
এই বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ১৬৯ জন। শিক্ষক ৬ জন। বিদ্যালয় ক্লাস শুরু
হয়েছিল নিয়মিতভাবেই। বেলা একটা নাগাদ হঠাৎ পুলিশ বিভিন্ন আধিকারিকদের ঝাঁ চকচকে
কয়েকটি গাড়ি ওই বিদ্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে পড়ে। শিক্ষকরা চমকে যান খানিকটা,
ততক্ষণে ধীরে ধীরে ভেতরে প্রবেশ করেন জেলাশাসক আয়েশা রানী সহ বিডিও
দীপক ঘোষ ও অন্যান্যরা।ভীড়ে ভরে যায় বিদ্যালয়ে,ঢুকেই বিদ্যালয়ে
উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিয়ে দুই একটি প্রশ্ন করেন জেলা শাসক।
এরপরে শিক্ষকদের উপস্থিতির রেজিস্টার খাতা খতিয়ে দেখেন।প্রধান
শিক্ষক উপস্থিত না হলেও এদিন ছুটির আবেদন নিয়ম অনুযায়ী দেওয়া ছিল।সেসব খতিয়ে
দেখে ছাত্রছাত্রীদের পোশাক বিতরণ,অন্যান্য পরিকাঠামোও খতিয়ে
দেখেন জেলা শাসক। রান্না করা মিড ডে মিলের পরিস্থিতিও দেখেন তিনি। অনেকটা সন্তোষ
প্রকাশ করেই বেরিয়ে যান সেখান থেকে। এরপরে একইভাবে ঝাটিয়াড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ও পরিদর্শন করেন।
জেলাশাসক আয়েশা রানী এই প্রসঙ্গে
বলেন- "আমি দুটি বিদ্যালয় কি পরিস্থিতি দেখতে গিয়েছিলাম।বিশেষত করোনা
পর্বের পর পড়াশোনার পরিস্থিতি দেখছিলাম। তবে আরও একটু পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাটা
থাকা দরকার। বাকি ঠিকঠাকই রয়েছে।"
আমলদা প্রথামিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইমদাদুল
হক বলেন-“ আমরা নিয়ম মতোই ক্লাশ করছিলাম, হঠাত বিভিন্ন আধিকারিকরা ঢুকে পড়েন ৷ আমরা
জেলাশাসক ছাড়া অনেককেই চিনতে পারিনি ৷ পরে সকলকেই জানতে পারি ৷ জেলা শাসক বিদ্যালয়ের
বিভিন্ন জিনিস ক্ষতিয়ে দেখেছেন ৷ কথা বলেছেন ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গেও ৷”
মুখ্যমন্ত্রীর সুন্দরবন এলাকায় গিয়ে বিভিন্ন
বিদ্যালয় ঘুরে পরিস্থিতি দেখেছেন গত দুদিন ধরে ৷ এবার সেই ঝটিকা সফর জেলা শাসকেরও পশ্চিম
মেদিনীপুরে ৷বৃহস্পতিবার জেলাশাসক আয়েশা রানী জানিয়েছেন নিয়মিত
তিনি বিভিন্ন বিদ্যালয় গুলিতে পরিদর্শন করবেন।করোনা পরবর্তী পর্যায়ে শিক্ষক
শিক্ষার্থীদের পরিস্থিতি গুলো দেখার চেষ্টা হবে।


কোন মন্তব্য নেই