খড়্গপুর: বিবাহিত দুজনেই যুবক-যুবতী। যুবতী নিজের স্বামী সন্তান ছেড়ে দিয়েছিলেন প্রেমিকের টানে। যুবকও নিজের স্ত্রী সন্তানকে ছেড়ে দিয়ে বেরিয়ে এসেছিলেন। গ্রামবাসীদের নিয়মের বিরুদ্ধে গিয়ে গ্রামের শেষ প্রান্তে চালা তৈরি করে লিভ …
খড়্গপুর: বিবাহিত দুজনেই যুবক-যুবতী। যুবতী নিজের স্বামী সন্তান ছেড়ে দিয়েছিলেন প্রেমিকের টানে। যুবকও নিজের স্ত্রী সন্তানকে ছেড়ে দিয়ে বেরিয়ে এসেছিলেন। গ্রামবাসীদের নিয়মের বিরুদ্ধে গিয়ে গ্রামের শেষ প্রান্তে চালা তৈরি করে লিভ ইন সম্পর্কে বাস করছিলেন দুজনে।প্রত্যন্ত গ্রামের এই সম্পর্ক ছ-বছর পর তিক্ত হলো। মঙ্গলবার দুপুরে প্রেমিকার দেহ জঙ্গলে একটি কবর থেকে উদ্ধার করল পুলিশ। অভিযোগ উঠল প্রেমিক যুবক ওই যুবতীকে খুন করে পুঁতে দিয়েছিল গ্রামের পাশে জঙ্গলে। যুবককে আটক করে তদন্ত শুরু করল খড়গপুর গ্রামীন থানার পুলিশ। মৃতা মহিলার নাম পবিত্রা সিং (৩২)।ধৃত যুবক তরুণ সিং। ঘটনাটি খড়্গপুরের ভালুকমাচা এলাকায়।
সোমবার দুপুর নাগাদ বছর ৪২ এর তরুণ সিং- এর প্রেমিকা বা লিভ-ইন পার্টনার বছর ৩২ এর পবিত্রা সিং 'রহস্য মৃত্যু'র ঘটনা সামনে আসে এলাকাবাসীর কাছে। অভিযোগ, পবিত্রা-কে খুন করে পুঁতে দিয়েছে তাঁর সঙ্গী বা প্রেমিক। তাকে পুঁতে দেওয়া হয়েছে গ্রাম থেকে কিছুটা দূরে একটি জঙ্গলে কবর তৈরি করে।মঙ্গলবার, ওই গ্রামে, ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দেহ উদ্ধার করা হয় এবং ময়নাতদন্ত সহ সমস্ত ধরনের পুলিশি তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সোহানি সিং বলেন -"তরুণ নামে ওই প্রেমিক এলাকাবাসীদের মধ্যে কয়েকজনের বাড়িতে গিয়ে সোমবার জানায়, পবিত্রা'র মৃত্যু হয়েছে। দাহ করতে হবে। এলাকাবাসী জানান, এখন তাঁরা চাষের কাজে ব্যস্ত, কিছুক্ষণ দেরি হবে। অভিযোগ, এর মধ্যেই পবিত্রাকে নিজেদের 'কুঁড়ে ঘর' থেকে কিছুটা দূরে, মাঝ জঙ্গলে গর্ত খুঁড়ে পুঁতে দেয় তরুণ। আমাদের সন্দেহ পবিত্রা অসুস্থ ছিল। তার উপর তাকে মারধর করে খুন করে দিয়েছে ওই যুবক। পরে নিজেই পুঁতে দিয়েছে।"সোমবার বিকেলে পুলিশ গিয়ে প্রাথমিক তদন্তের পর তরুণ সিং-কে প্রথমে আটক ও পরে গ্রেফতার করে।
গ্রামের আপামর পুরুষ মহিলা জানাচ্ছেন, দু'জনই নিজেদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের ছেড়ে একসাথে ঘর বাঁধতে চেয়েছিল। তরুণের স্ত্রী ও সন্তানরা এই ভালুকমাচা গ্রামেই থাকে। পবিত্রা'র ক্ষেত্রেও তাই। তবে, প্রেমের টানে সেইসব তারা পরিত্যাগ করে মাসখানেকের জন্য বাইরে পালিয়ে গিয়েছিল। তারপর, ফিরে আসে গ্রামে। এরপরই, গ্রামের পাশেই কিছুটা জঙ্গল সংলগ্ন নিরিবিলি এলাকায় মাটি, বাঁশ দিয়ে 'কুঁড়ে ঘর' তৈরি করে বসবাস শুরু করেছিল। তবে, কয়েক বছর পরই সঙ্গিনীর উপর অত্যাচার শুরু করে তরুণ। গ্রামবাসীরা একযোগে জানিয়েছেন, তাঁরাও সেইসব শারীরিক অত্যাচারের সাক্ষী আছেন। মদ্যপ অবস্থায় অকথ্য অত্যাচার চালানো হতো বলে অভিযোগ। আর এভাবেই সোমবারও মদ্যপ অবস্থায় অত্যাচার চালাতে গিয়েই তরুণ তার সঙ্গিনীকে মেরে ফেলে বলে অভিযোগ।পুরো ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

কোন মন্তব্য নেই