Page Nav

HIDE

Grid Style

GRID_STYLE

Post/Page

Weather Location

Classic Header

Popular Posts

Just In :

latest

Murder : জকপুর কাণ্ডে 'লরি খালাসিকে গুলি ছিনতাই' পুরোটাই গল্প, চালকের নজর ছিল খালাসীর স্ত্রীর দিকে, রহস্য ফাঁস পুলিশের

মেদিনীপুর: গত ২৫ শে নভেম্বর রাত তিনটা নাগাদ মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রক্তাক্ত অবস্থায় লরির খালাসী নাজমুল সাকিন নামে এক যুবককে ভর্তি করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল -" ছিনতাই করতে এসে জাতীয় সড়কে দুষ্কৃতীরা গুলি করেছে তার …

মেদিনীপুর: গত ২৫ শে নভেম্বর রাত তিনটা নাগাদ মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রক্তাক্ত অবস্থায় লরির খালাসী নাজমুল সাকিন নামে এক যুবককে ভর্তি করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল -" ছিনতাই করতে এসে জাতীয় সড়কে দুষ্কৃতীরা গুলি করেছে তার মাথায়।" আশঙ্কা জনক অবস্থায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কলকাতার পিজি হাসপাতালে রেফার করেছিলেন চিকিৎসকরা। এই কাণ্ডের তদন্ত নেমে বড় রহস্য উন্মোচন করলেন জেলা পুলিশের কর্তারা। পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার জানান-আহত লরির খালাসির স্ত্রীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল লরির চালকের, তাই স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে মাথায় কুপিয়ে খুন করে রাস্তা পরিষ্কার করতে চেয়েছিল চালক আমানুর হক নামের লরির চালকদুষ্কৃতিদের ছিনতাই গুলি একটা নাটক।

জানা গিয়েছে কেশপুরের মুগবাসান এলাকার বাসিন্দা নাজমুল সাকিন(২২) লরির খালাসির কাজ করতেন। নাজমুলের পিসির ছেলে আমানুর হক ওই লরিতেই চালক হিসেবে কাজ করেন। গত ২৫ শে নভেম্বর রাতে নাজমুলকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে সে। লরির চালক আমানুর পুলিশকে জানিয়েছিল-খড়গপুর গ্রামীন থানার অন্তর্গত জকপুর রেল ব্রিজের কাছে চালক ও খালাসি তারা প্রাত:কৃত সারতে নেমেছিলেন। ওই সময় দুষ্কৃতীরা টাকা ছিনতাই করতে হাজির হয়েছিল। টাকা ছিনিয়ে পালানোর সময় সঙ্গে থাকা খালাসী নাজমুল বাধা দিতে গেলে, দুষ্কৃতীরা সামনে থেকে দুটো গুলি করে বাইক নিয়ে চম্পট দেয়। ছিনিয়ে নিয়ে যায় ছয় হাজার টাকা।

রক্তাক্ত নাজমুলকে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা দেখে জটিল পরিস্থিতি ভেবে কলকাতার পিজিতে রেফার করে দেন। আশঙ্কা জনক অবস্থায় সেখানে সে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে ঘটনার তদন্তে নামে খড়গপুর গ্রামীন থানার পুলিশ। পরদিন দিনের বেলা ঘটনাস্থলে গুলি করার তেমন কোন চিহ্ন খুঁজে পায়নি পুলিশ। শুরু হয় ঘটনার সঠিক  তদন্ত।

লরির চালক আমানুরকে বারবার জিজ্ঞেস করার পর পাল্টাতে থাকে কথা। বেরিয়ে আসে একাধিক তথ্য। অনেক চেষ্টার পর দেখা যায় কোনো গুলি করার ঘটনা ঘটেনি সেই রাতে। পরিকল্পিতভাবে নাজমুলকে খুন করে পথের কাঁটা সরাতে চেয়েছিল লরির চালক আমানুর। কারণ আমানুরের নজর ছিল নাজমুলের স্ত্রীর দিকে। সদ্য বিবাহিত নাজমুলের স্ত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল লরির চালক আমানুরের। আমানুর ও নাজমুলের স্ত্রী তামান্না বিবি দুজনে পরিকল্পনা করেই নাজমুলকে খুন করার পরিকল্পনা করেছিল বলে পুলিশ জানতে পারে। তাই জকপুর এলাকায় ঘুমন্ত নাজমুলকে স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে খুঁচিয়ে কুপিয়ে খুন করার চেষ্টা করেছিল চালক আমানুর। তামান্না বিবি ও আমানুরকে জেরা করে সব জানতে পারার পর তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার সোমবার সাংবাদিকদের জানান-" এটা একটি দুষ্কৃতীদের ছিনতাই এর ঘটনা ও গুলির কাণ্ড বলা হয়েছিল। তদন্তে ধরা পড়ে অন্য তথ্য। আসলে লরির চালক আমানুরের সঙ্গে খালাসী নাজমুলের স্ত্রী তামান্না বিবির অবৈধ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। পথের কাঁটা সরাতে নাজমুলকে পরিকল্পিতভাবে খুন করার চেষ্টা হয়েছিল স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে কুপিয়েজেরাতে সব স্বীকার করেছে তামান্না বিবি ও আমানুর। দুজনকে গ্রেফতার করে মেদিনীপুর আদালতে তোলা হয়েছিল। তাদের ৯ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ হয়েছে। তবে এই তদন্ত সাফল্যের সঙ্গে করায় তদন্তকারি পুলিশ কর্মীদের ১০ হাজার টাকা পুরষ্কার দেওয়া হচ্ছে ৷"

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মুগবাসান এর বাসিন্দা নাজমুল সাকিন এর নিজের পিসির ছেলে হল আমানুর হক। আমানুরের বাড়ি কেশপুরের সোরুই এলাকায়। দুজনেই নিকট আত্মীয়। প্রায় তিন মাস আগে নাজমুলের বিয়ে হয়। সেই বিয়ের অনুষ্ঠানেও পরিবারের আত্মীয় হিসেবে আমানুর গিয়েছিল নাজমুলের বাড়িতে। মাত্র তিন মাসের বিয়ের মধ্যেই নাজমুলের স্ত্রী তামান্না বিবির সঙ্গে আমানুরের অবৈধ সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়। তাই পথের কাঁটা হিসেবে নাজমুলকে খুন করে সরিয়ে তামান্না ও আমানুর বিয়ের পরিকল্পনা করে ৷ তাই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেইমতো ২৫ নভেম্বর রাতে লরিতেই ঘুমন্ত নাজমুলকে স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে খুঁচিয়ে খুন করার চেষ্টা করে আমানুরঘটনার পরে মারা গিয়েছে মনে করে নিজেই হাসপাতালে নিয়ে আওয়ার ব্যাবস্থা করে ৷তৈরী করে ছিনতাই নাটক পরিস্থিতি ৷ তথ্য সামনে আসতে হতবাক পুলিশও। আপাতত পুলিশ হেফাজতে আমানুর ও তামান্না বিবি। অন্যদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন নাজমুল সাকিন।



কোন মন্তব্য নেই