ডেবরা: কয়েকদিন আগে প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠকে জেলাশাসকের সামনে মহকুমা শাসক ও ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকদের জনসংযোগ না করা ও কেবলমাত্র অফিসে বসে কাজ করা নিয়ে তুলোধুনা করেছিলেন ডেবরার বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্…
ডেবরা: কয়েকদিন আগে প্রশাসনিক আধিকারিকদের
নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠকে জেলাশাসকের সামনে মহকুমা শাসক ও ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকদের
জনসংযোগ না করা ও কেবলমাত্র অফিসে বসে কাজ করা নিয়ে তুলোধুনা করেছিলেন ডেবরার বিধায়ক
তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী হুমায়ুন কবীর৷ বলেছিলেন-“ এসডিও-বিডিও দের গদি চেয়ার,
এসিরুম ছাড়িয়ে কাঠের চেয়ার দিতে হবে, তাহলে মানুষের সাথে দেখা করতে বাইরে যাবেন তাঁরা৷”
সেই নিদান দেওয়ার পরে রবিবার বিকালে নিজে সাইকেলে করে বিভিন্ন গ্রামের পথে ঘুরলেন ডেবরার
বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী হুমায়ুন কবীর ৷ শুনলেন মানুষের অভাব অভিযোগ ৷ অংশ নিলেন-‘চলো
গ্রামে যাই’-এ৷
রবিবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার
ডেবরা ব্লকে 'চলো গ্রামে যাই' তৃণমূলের
কর্মসূচিতে অংশ নেন ডেবরার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ছিলেন ব্লক সভাপতি বিবেকানন্দ
মুখার্জি সহ অন্যান্যরা। এদিন সাইকেল চালিয়ে হৈপথ, হাসিমপুর সহ পরপর বেশ কয়েকটি গ্ৰামে গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বার্তা বলেন হুমায়ুন কবীর। আগামীতে
তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার আবেদন করেন। তাঁকে ঘিরে সরকারি প্রকল্পে বাড়ি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বিধবা ভাতা সহ নানা সরকারি সুবিধা
না পাওয়ার নানা অভাব অভিযোগ শোনালেন এলাকাবাসী। তবে সরকারি
সুবিধা পাওয়ার পথও বাতলে দেন তিনি।পাড়াতে পাড়াতে ঘুরে সকলের সাথে কথা বলে
ভেতরে লুকিয়ে থাকা ক্ষোভেরও আঁচ করে নেন ৷ পাড়ার ভেতরে সাইকেলে করে ঘোরার সময়ে চকোলেট
বিলি করলেন বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ৷
পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে জনসংযোগে জোর দিতে
জনপ্রতিনিধিদের এলাকায় যাওয়ার নির্দেশ তৃণমূল রাজ্য নেতৃত্বের।এরই
মাঝে ডেবরাতে একটি পর্যালোচনা বৈঠকের আয়োজন হয়েছে সম্প্রতি ৷ সেই বৈঠকে ডেবরা বিধানসভার
বিভিন্ন প্রান্তের আধিকারিক, এসডিও, বিডিও, জনপ্রতিনিধি সকলে উপস্থিত ছিলেন ৷ ছিলেন
জেলা শাসক আয়েশা রানি, বিধায়ক হুমায়ুন কবির নিজেও৷ সেখানে সকলের উপস্থিতিতে জেলা শাসককে
বলেছিলেন-বলেছিলেন-“ এসডিও-বিডিও দের গদি চেয়ার, এসিরুম ছাড়িয়ে কাঠের চেয়ার দিতে হবে,
তাহলে মানুষের সাথে দেখা করতে বাইরে যাবেন তাঁরা৷”
তার এই নিদান নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া তৈরী
হয়েছিল ৷ তারপর রবিবার বিকালে জনসংযোগে বেরিয়ে
সাইকেলে করে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরলেন তিনি। এক
তৃণমূল নেতা বলেন, সাইকেলে হলে মানুষের অনেক কাছে যাওয়া
যায়। মানুষজনও এগিয়ে আসেন। মাঝে মাঝে জনসংযোগে সাইকেল নিয়ে বেরোনো ভালো। তবে হুমায়ুন কবির বলেন- “ সব স্থানে চারচাকা প্রবেশ
করবেনা ৷ কিন্তু মানুষের কাছে আমাকে পৌঁছাতে হবে ৷ তাই সাইকেলে করেই বেরিয়েছি ৷ আমার
বিধানসভার যেখানেই প্রয়োজন হবে আমি সাইকেলে করেই বেরোবো ৷ মানুষের চাওয়া পাওয়ার খোঁজ
করতেই বেরিয়েছি ৷তবে এর সাথে ভোটের সম্পর্ক নেই ৷ কারন ভোট এখনও অনেক বাকি ৷ ”

কোন মন্তব্য নেই