Page Nav

HIDE

Grid Style

GRID_STYLE

Post/Page

Weather Location

Classic Header

Popular Posts

Just In :

latest

Medinipur Live :নাবালিকাকে অন্তসত্ত্বা করার অভিযোগ ছিল,ডিএনএ নেগেটিভ হতেই আদালতের নির্দেশে গ্রেপ্তার অভিযোগকারিনী

আনন্দপুর: ১৩ বছরের এক নাবালিকা অন্তসত্ত্বা হয়ে পড়েছিল। সেই নাবালিকাকে অন্তসত্ত্বা করা হয়েছে এমন অভিযোগ তোলা হয়েছিল এলাকারই এক যুবকের বিরুদ্ধে। শাসকদল ও পাড়ার মোড়লেরা চাপ দিয়ে ওই যুবককে দায় স্বীকার করে বিয়ে করতে বাধ্য করে…

আনন্দপুর: ১৩ বছরের এক নাবালিকা অন্তসত্ত্বা হয়ে পড়েছিল। সেই নাবালিকাকে অন্তসত্ত্বা করা হয়েছে এমন অভিযোগ তোলা হয়েছিল এলাকারই এক যুবকের বিরুদ্ধে। শাসকদল ও পাড়ার মোড়লেরা চাপ দিয়ে ওই যুবককে দায় স্বীকার করে বিয়ে করতে বাধ্য করে। গর্ভে থাকা সন্তান তার নয়, কোনভাবেই জড়িত নয় বলার পরেও জোর করে বিয়ের মুচলেকা লেখাতে রাতেই বাড়ি ছাড়েন ওই যুবক। আদালতে মামলা করে একাধিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়, এরপর বিচারকের নির্দেশে ডিএনএ টেস্ট হলে, ধরা পড়ে যুবকের দাবি সত্যি। অবশেষে বিচারকের নির্দেশেই গ্রেপ্তার করা হলো সেই যুবতীকে। সঠিক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হল পুলিশকে। ঘটনাটি পশ্চিম মেদিনীপুরের আনন্দপুর এলাকার। 

২০১৭ সালে আনন্দপুরের নতুনবাজার এলাকার এক ১৩ বছরের নাবালিকা অন্তসত্ত্বা হয়েছে বলে এলাকায় রটে। এর দায় বর্তে দেয় স্থানীয় এক যুবকের ঘাড়ে। যুবক জানিয়ে দেয় কোন ভাবেই ওই নাবালিকার সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল না বা নেই। কিন্তু তা মানতে অস্বীকার করে স্থানীয় শাসকদলের নেতা ও মোড়লরা।এরপরে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হয়। যুবকের অভিযোগ,এক রাতে ওই নাবালিকার মুখ দিয়ে আমার নাম বলিয়ে বিয়ের মুচলেকা তৈরি করে স্বাক্ষর করায় স্থানীয় শাসকদলের নেতৃত্বরা। ৫ বিঘে জমি ও বহু কিছু ওই নাবালিকাকে দিতে চাপ দেয়৷ এরপরই ওই যুবক সকাল হওয়ার আগেই গ্রাম ছাড়েন। আর গ্রামে প্রবেশ করেননি। সোজা মেদিনীপুর আদালতে এসে মামলা করেন। মামলার নোটিশ যায় অভিযুক্ত নেতাদের নামে। তাতে আরো পরিস্থিতি বিগড়ে যায় ওই যুবকের পরিবারের ক্ষেত্রে। নেতারা মামলা তোলার জন্য চাপ দেয় বলে দাবি ওই যুবকের পরিবারকে। মামলা না তোলায় বয়কট করা হয় সমস্ত কিছু। চাষ থেকে স্বাভাবিক জীবনযাপন সব বন্ধ থাকে। মেদিনীপুর আদালতে উপস্থিত ওই যুবক জানান-" প্রায় দু লক্ষ টাকা আর্থিক জরিমানা দফায় দফায় নিয়েছে ওই নেতারা। সেই সঙ্গে মামলা না তোলার কারণে আমার কাকাকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল । সেই মামলা আমরা আবার আদালতে করি। যা এখনো চলছে।" এই পরিস্থিতিতে মেদিনীপুর আদালতের বিচারক ওই নাবালিকার জন্ম নেওয়া কন্যা সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন। ডিএনএর পরীক্ষায় বোঝা যায় যুবকের দাবী সত্যি। অভিযোগকারী যুবক ওই কন্যা সন্তানের বাবা নন। 

এই পরিস্থিতিতে যুবকদের পক্ষ থেকে পাল্টা মামলা করা হয়। ইতিপূর্বে জমা দেওয়া পুলিশের চার্জশিট ভুল উল্লেখ করলে বিচারক সঠিক তদন্তের নির্দেশ দেন। অন্যদিকে নাবালিকার বয়স বেড়ে সাবালিকা হয়ে যায়। ২০২২ সালের ৪ আগস্ট মেদিনীপুর আদালতের ষষ্ঠ দায়রা বিচারক মিথ্যে অভিযোগ করা ওই কন্যা সন্তানের মা তথা যুবতীকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। কিন্তু তারপরও বিভিন্ন কারণে গ্রেফতার হয়নি বলে দাবি অভিযোগকারী যুবকের।

যুবকের আইনজীবি আদালতে পুনরায় জানালে আদালত আনন্দপুর থানাকে পুনরায় ১০ই নভেম্বর ওই যুবতীকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়। এরপরে বুধবার ওই যুবতীকে গ্রেফতার করে আনন্দপুর থানার পুলিশ। মামলা নতুন করে সঠিক তদন্তের নির্দেশ দেন বিচারক। সেই সঙ্গে ওই কন্যা সন্তানের প্রকৃত বাবা কে, তাও খুঁজতে বলা হয়। শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়া হয় গ্রেফতার হওয়া যুবতীকে।

যার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছিল সেই যুবকের আইনজীবী শমীক ব্যানার্জি বলেন-" ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় যে ওই যুবতী প্রতারণা করেছেন আমার মক্কেলের সঙ্গে। তাই আদালতের নির্দেশে পুলিশ যুবতীকে গ্রেফতার করেছে। একাধিক কারণে তাকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্তের ক্ষেত্রে আনন্দপুর থানার পুলিশ একাধিক গাফিলতি করেছে। যে কারণে ওই কন্যা সন্তানের বাবা প্রকৃত কে, তা সামনে আসেনি, বা কার কথাতে এভাবে ফাঁসানো হয়েছিল সেটাও এখনো পরিস্কার করেনি। পুলিশ সঠিক তদন্ত করলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।"

কোন মন্তব্য নেই