মেদিনীপুর: সাত সকালেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ডে। সরকারি বাস স্ট্যান্ডে দাঁড় করিয়ে সঠিকভাবে ব্রেক না দিয়ে নেমে পড়েছিলেন বাসের চালক। তারপরেই বাসের বনেট খোলার চেষ্টা করে খালাসি। দাঁ…
মেদিনীপুর: সাত সকালেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ডে। সরকারি বাস স্ট্যান্ডে দাঁড় করিয়ে সঠিকভাবে ব্রেক না দিয়ে নেমে পড়েছিলেন বাসের চালক। তারপরেই বাসের বনেট খোলার চেষ্টা করে খালাসি। দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি পেছনে পিছিয়ে গিয়ে পিষ্ঠ করে দিল বাবা ছেলেকে। মৃত্যু হল রাজনারায়ণ সামন্ত (৪০)নামে ছেলের।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন শুক্রবার সকাল সাতটা নাগাদ সরকারি একটি বাস এসে প্রবেশ করে মেদনীপুর সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ডে। যাত্রী নামিয়ে ওই গাড়ির চালক গাড়িটাকে দাঁড় করিয়ে বাথরুমে চলে যান। তারপরে কন্ডাক্টর গাড়ির বনেট খুলে মালপত্র বের করার চেষ্টা করে। তখনই গাড়ির হ্যান্ডব্রেক না মেরে রাখায় ওই মুহূর্তে গাড়ি নিউট্রাল হয়ে যায়। গাড়ির পেছন দিকে গড়াতে শুরু করে। সেই সময় যাত্রীভরা সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ডে অনেক মানুষই যাতায়াত করছিলেন। পেছনে আরো বেশ কয়েকটা বাস ছিল। ওই সরকারি বাসের পেছন দিয়ে বাবা ও ছেলে অন্যত্র যাওয়ার চেষ্টা করছিল। সরকারি বাসটি পিছোনোর সময় উল্টো দিকে আরও একটি বাসের মাঝে পড়ে যায় তারা। ঘটনাস্থলে বৃদ্ধ বাবা ও ৪০ বছরের ছেলে রাজনারায়ণ সামন্ত দুজনেই পিষ্ট হয়ে যায়। অন্যান্যরা দ্রুত বাবাকে কোনোভাবে টেনে বের করতে পারলেও ছেলেকে বের করতে দেরি হয়ে যায়। অন্য বাসের চালকরা দ্রুত বাসটিকে এগিয়ে ছেলেটিকে উদ্ধার করে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুটো নিয়ে যায়। চিকিৎসা শুরু হলেও রাজনারায়ণ সামন্তের মৃত্যু হয় সেখানে।
ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় এক বাসের চালক শেখ রাজু বলেন-" সরকারি বাসের ওই চালক বাস দাঁড় করানোর পর হ্যান্ড ব্রেক নামেরে বাথরুম চলে গিয়েছিলেন। কন্ডাক্টর বিষয়টি বুঝতে না পেরে বনেট করার চেষ্টা করতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।" এই ঘটনায় নিজের ভুল স্বীকার করেছেন ওই সরকারি বাসের চালক শ্রীকান্ত মন্ডল। তিনি বলেন কোন ভাবে বনেট খোলার সময় নিউট্রাল হয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার পরে কোতোয়ালি থানার পুলিশ সেখানে হাজির হয়। বাসটিকে আটক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে।

কোন মন্তব্য নেই