মেদিনীপুর: ভয়ানক বৃদ্ধি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডেঙ্গু সংক্রমণ। চলতি বছরে এখনো পর্যন্ত ১৭০ জন সংক্রমিত হলেও, সেপ্টেম্বর মাসেই সংক্রমণ ১০৩ জনের। চরম উদ্বিগ্ন পর্যায়ে যাচ্ছে পরিস্থিতি দেখে সচেতনতা ও টেস্ট সমহারে বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্…
মেদিনীপুর: ভয়ানক বৃদ্ধি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডেঙ্গু সংক্রমণ। চলতি বছরে এখনো পর্যন্ত ১৭০ জন সংক্রমিত হলেও, সেপ্টেম্বর মাসেই সংক্রমণ ১০৩ জনের। চরম উদ্বিগ্ন পর্যায়ে যাচ্ছে পরিস্থিতি দেখে সচেতনতা ও টেস্ট সমহারে বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্য দপ্তর। জরুরী বৈঠকে রাজ্য স্বাস্থ্য কর্তাদের সঙ্গে জেলার স্বাস্থ্যকর্তারা।
২০২১ সালে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা জুড়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল ১৩০ জন। সারা বছরের মোট সংক্রমণ ছাপিয়ে গিয়েছে এ বছর পশ্চিম মেদিনীপুরে ইতিমধ্যেই। ২৩ শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা জুড়ে ১৭০ জন সংক্রমিত এখনো পর্যন্ত। ২০২১ সালে আগস্ট মাসে মাত্র ৮ জন সংক্রমিত ছিল, এবছর আগস্ট মাসে ৪২ জন সংক্রমিত। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই জেলাতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ছিলেন উনিশ জন। এই বছর সেপ্টেম্বর মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১০৩ জন। ফলে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। একাধিক সচেতনতা সাবধানতা অবলম্বন করার পরও প্রচুর পরিমাণে গাপ্পি মাছও ছাড়া হয়েছে ডেঙ্গুর লার্ভা নিধনে। তাতেও ডেঙ্গু বিস্তৃতিতে লাগাম টানা যায়নি।
টেস্ট এর পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে প্রচুর। ২০২১ সালে সারা বছরে ডেঙ্গুর টেস্ট হয়েছিল ৪২১৪ টি। ২০২২ সালে সেই টেস্ট ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে ৬৫৫৩ জনের।
সবথেকে বেশি ডেঙ্গু সংক্রমিত এলাকা হলো খড়গপুর পৌরসভা এলাকা, দাসপুর১ ও ২ ব্লক, দাসপুরের পলাশপাই গ্রাম পঞ্চায়েত সবথেকে হাই রিস্ক এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে। এরপরেও রয়েছে গড়বেতা ১ ব্লক, ঘাটাল ও ডেবরা। যেখানে সব থেকে বেশি ডেঙ্গুর সংক্রমণ।স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে-এই মুহূর্তে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৯ জন, খড়্গপুরে একজন, ঘাটালে ১০ জন, ডেবরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে একজন, সব মিলিয়ে ২১জন চিকিৎসাধীন এই কয়েকটি হাসপাতালে ।
পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলেই মনে করছে স্বাস্থ্য দপ্তর। শুক্রবার এই বিষয়ক একটি ভিডিও কনফারেন্স হয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্যকর্তা ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে এই জেলার স্বাস্থ্যকর্তাদের। তবে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাক্তার সৌম্য শংকর সারেঙ্গী বলেন-" পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই আছে। মানুষকে আরো বেশি সাবধান ও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। টেস্ট এর পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নেই। প্রয়োজনের সমস্ত রকমের ব্যবস্থা গুরুত্বসহকারে নেওয়া হচ্ছে।"
অন্যদিকে বিষয়টি বিদ্যালয় স্তরেও প্রচার করে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা হয়েছে শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে ৷ নির্মল বিদ্যালয় পাক্ষিক অভিযানের মধ্য দিয়ে শুক্রবারও মেদিনীপুর সদরের জুয়ারহাটি এলাকাতে ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতনতা প্রচার করতে রেলি বের করেছিল জুয়ারহাটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা ৷ স্লোগান ও পোস্টার ব্যানার নিয়ে সচেতন করা হয়েছে শুক্রবার ৷

কোন মন্তব্য নেই