Page Nav

HIDE

Grid Style

GRID_STYLE

Post/Page

Weather Location

Classic Header

Popular Posts

Just In :

latest

Elephant:হাতি-কে নিয়ে ফুটবল ঝাড়গ্রাম বনাম পশ্চিম মেদিনীপুর, মাঝে ব্যাপক ক্ষতি চাষে

ধেড়ুয়া: পশ্চিম মেদিনীপুরে এই মুহূর্তে একশোর বেশি হাতি রয়েছে। যার মধ্যে মেদিনীপুর সদরেই রয়েছে বেশিরভাগটা। যেগুলি ঝাড়গ্রাম এর মানিকপাড়া হয়ে প্রবেশ করেছে। পুজোর সময় এই বিপুল পরিমাণ হাতি এলাকায় থাকলে অন্যান্য বারের মতো এবারও…

 


ধেড়ুয়া: পশ্চিম মেদিনীপুরে এই মুহূর্তে একশোর বেশি হাতি রয়েছে। যার মধ্যে মেদিনীপুর সদরেই রয়েছে বেশিরভাগটা। যেগুলি ঝাড়গ্রাম এর মানিকপাড়া হয়ে প্রবেশ করেছে। পুজোর সময় এই বিপুল পরিমাণ হাতি এলাকায় থাকলে অন্যান্য বারের মতো এবারও পুজো মাটি হয়ে যাবে-এই আশঙ্কায় কংসাবতী নদীর দুই পাড়ে ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়া ও মেদিনীপুর সদরের ধেড়ুয়া এলাকার লোকজন প্রতিদিনই হাতিকে তাড়ানোর চেষ্টা করছে।একদিকে মানিকপাড়া প্রবেশ করতে দিচ্ছে না, অন্যদিকে মেদিনীপুর রাখতে চাইছে না। এর ফলে হাতি মাঝের কংসাবতী নদীর মাঝে প্রতিদিন রাতে দাঁড়িয়ে থেকে দুই পক্ষের লড়াই শেষ হলে প্রবেশ করছে মেদিনীপুর সদরেই। নদীর দুই প্রান্তে দুই জেলার গ্রামবাসী ও হুলা পার্টির সদস্যদের তাড়া-তে ফুটবলের মত হয়ে গিয়েছে হাতি।

পশ্চিম মেদিনীপুরে আবাসিক হাতি ছাড়াও সম্প্রতি ঝাড়গ্রাম জেলা থেকে মানিকপাড়ার পথ ধরে ৬০ টি হাতি প্রবেশ করেছে। এই মুহূর্তে মেদিনীপুর সদরেই প্রায় একশোর বেশি হাতি রয়েছে। যেগুলির খাবারের কোন সংস্থান জঙ্গলে নেই। তাই প্রতিদিনই খাবারের খোঁজে রোয়াধানের জমি ও লোকালয় প্রবেশের চেষ্টা করছে হাতির পাল। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মেদিনীপুর সদরের বহু জঙ্গল সংলগ্ন গ্রামের বাসিন্দারা পালা করে হাতি তাড়াচ্ছেন। কখনো কখনো তাদের সঙ্গ দিচ্ছে পুলিশ ও বনদপ্তর।

মেদিনীপুর সদরের দেউলডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা বাপি মাহাতো বলেন-" প্রতিদিনই এই পূজোর সময়ও আমরা পালা করে হাতি তাড়াচ্ছি। পুজোতে একটা জামা কেনারও ক্ষমতা নেই আমাদের। হাতিতে ফসল থেকে সবটাই নষ্ট করে দিয়েছে। তারপরও বনদপ্তরকে বললেও হাতি তাড়ানোর নূন্যতম সহযোগিতা পাচ্ছিনা। এই পরিস্থিতি চললে আমাদের বাটি হাতে রাস্তায় বসতে হবে।"

মালকুড়ি এলাকার বাসিন্দা দয়াল মাহাতো বলেন-" হাতিতে প্রচুর ফসলের ক্ষতি করেছে। কিন্তু সেই ক্ষতিপূরণের জন্য বনদপ্তরকে ফর্ম চাইতে গেলে তারা বিভিন্ন অজুহাত দেখাচ্ছে। দিতেই চাইছেন না আমাদের। সবদিক থেকে সর্বশান্ত আমরা।"

স্থানীয় বাসিন্দা বিজয় মাহাতো বলেন-" প্রতিদিনই আমরা হাতিকে তাড়ানোর চেষ্টা করছি নিজেদের বাঁচাতে। কিন্তু উল্টো প্রান্তে থাকা ঝাড় গ্রামের মানিকপাড়া লোকজন সেদিকে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। প্রতিদিন তাড়ালেও সকাল হলে হাতি পুনরায় ফিরে আসছে আমাদের এলাকাতে ওদের তাড়া খেয়ে। সব ক্ষতি করে দিয়েছে হাতিতে। বনদপ্তরের কোন সহযোগিতা নেই।"

অন্যান্য দিনের মতো সোমবার ও সন্ধ্যা থেকে গ্রামবাসীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিশাল একটি হাতির পালকে কংসাবতী নদী পার করে মানিকপাড়ার দিকে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু উল্টো প্রান্তে অনুরূপ হাতি তাড়ানোর দল ওই জেলাতে প্রবেশ করতে দেয়নি ক্ষতির আশঙ্কায়। ফলে হাতিকে তাড়িয়ে নিয়ে গিয়ে কংসাবতী নদীতে রাতভর রাখে মেদিনীপুর সদরের লোকজন। ভোরের পর দিনের আলো ফুটতে হামলার আশঙ্কায় মেদিনীপুর সদরের লোকজন সরে যেতে পুনরায় দেউলডাঙ্গা হয়ে ফিরে আসে হাতির পাল। সব মিলিয়ে হাতির পাল এখন ফুটবল হয়ে গিয়েছে। এই প্রান্তের লোকেরা তাড়িয়ে ঝাড়গ্রামে পাঠানোর চেষ্টা করলেও ওই প্রান্তের তাড়ায় পুনরায় ফেরত আসছে। পুজোর মুখে হাতি নিয়ে চলছে ফুটবল দুই জেলার বাসিন্দাদের।

কোন মন্তব্য নেই