মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর বনবিভাগের অস্থায়ী কর্মী শম্ভু দাস ৷ মেদিনীপুর শহর সংলগ্ন স্ত্রীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ৷বনবিভাগের পার্কে নাইটগার্ড এর কাজ করে থাকেন ৷ দীর্ঘবছর ধরে বনকর্মী হিসেবেই পরিচিতি তার ৷ মঙ্গলবার সকালে …
মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর বনবিভাগের অস্থায়ী কর্মী শম্ভু দাস ৷ মেদিনীপুর শহর সংলগ্ন স্ত্রীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ৷ বনবিভাগের পার্কে নাইটগার্ড এর কাজ করে থাকেন ৷ দীর্ঘবছর ধরে বনকর্মী হিসেবেই পরিচিতি তার ৷ মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় মারফত বনদফতর জানতে পারে- শম্ভু বাবু নিজের বাড়ির পাশে থাকা বারোটির মতো বিভিন্ন রকমের গাছ কেটে বিক্রি করছেন ৷ যার কোনো রকমের অনুমতিই নেই ৷ খবর পেয়েই বনবিভাগের আধিকারিকরা হাজির হয়ে যান ৷ তাদের দেখেই ফেরার গাছ কাটার লোকজন ৷ বনাধিকারিকদের দেখেই কাঁচুমাচু অবস্থা বনকর্মী শম্ভু বাবুর ৷ জানালেন-"অনেক বড়ো ভুল হয়ে গিয়েছে ৷"
শম্ভু বাবু বলেন- " নিম ,গামার, মেহগিনি মিলিয়ে প্রায় দশ বারোটি গাছ কেনার জন্য গাছ ব্যাবসায়ীরা আমাকে মাথা খেয়ে ফেলছিল ৷ তারা আমার দুই ছেলেকেও প্রলোভিত করেছিল ৷ ছেলেরা নেশায় আসক্ত, নেশার টাকা পেতে আমাকে মারধোর শুরু করেছিল ৷ তাদের চাপেই বাধ্য হয়ে গাছ বিক্রি করেছিলাম ৷ গাছ কাটার লোকেরা বলেছিল আমরা অনুমতি নিয়ে নেবো বনদফতর থেকে ৷ কিন্তু তা না করেই গাছ কেটে ফেলেছে ৷ আমি নিরুপায় হয়ে অনুমতি দিয়ে ভুল করেছে ফেলেছি ৷ " ঘটনার পর ডেপুটি রেঞ্জার শীতলচন্দ্র ভুঞা সহ একদল আধিকারিক সেখানে হাজির হয়ে তদন্ত করেন ৷ গাছ গুলি হিসেব করে বাজেয়াপ্ত করনের কাজ শুরু করে দেন মঙ্গলবার বিকালেই ৷ তবে তাঁরা কোনো মন্তব্য করতে চাননি সাংবাদিকদের সামনে ৷ বিষয়টি নিয়ে বনদফতরের অফিসেও ডাকা হয়েছিল শম্ভু দাসকে ৷ গাছ কাটা নিয়ে জেলা জুড়ে পুলিশ ও বনদফতরের কড়া পদক্ষেপের মাঝে বনকর্মী হয়ে এই কাজ নিয়ে অনেকেই নিন্দা শুরু করেছেন ৷ তবে অনেকেই আবার সহানুভুতিশীল হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন শম্ভু দাসের ৷ স্থানীয় কয়েকজন বলেন- ছেলের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরেই এই ভুল করেছে শম্ভু ৷ ওকে ক্ষমা করা হোক ৷

কোন মন্তব্য নেই