মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুরের কতোয়ালি থানাতে করা অভিযোগের ভিত্তিতে মেদিনীপুর আদালতে বিচারকগণ সম্প্রতি জানতে পেরেছিলেন বিচারকের স্বাক্ষর ও স্টাম্প নকল হচ্ছে। ভালো করে পরীক্ষা করে জানিয়েছিলেন পুলিশ সুপারকে। তদন্ত চালিয়ে মেদিনীপুর…
মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুরের কতোয়ালি থানাতে করা অভিযোগের ভিত্তিতে মেদিনীপুর আদালতে বিচারকগণ সম্প্রতি জানতে পেরেছিলেন বিচারকের স্বাক্ষর ও স্টাম্প নকল হচ্ছে। ভালো করে পরীক্ষা করে জানিয়েছিলেন পুলিশ সুপারকে। তদন্ত চালিয়ে মেদিনীপুর আদালত চত্বরেই থাকা একটি কম্পিউটার সেন্টারে অভিযান পুলিশের। সেখান থেকে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণে বিচারকের নকল স্ট্যাম্প, নকল স্ট্যাম্প পেপার, সহ বিভিন্ন সামগ্রী। গ্রেফতার করা হল বাপি পন্ডা নামে জেরস্ক সেন্টারের মালিককে৷ আদালত চত্বরেই সে তার ব্যাবসা চালাচ্ছিল ৷ আইনজীবিদের দাবি- "সে নকল নোটারি পেপার তৈরী করে বিক্রি করছিল ৷"
মেদিনীপুর জেলা আদালতের সরকারি আইনজীবি নাজিম হাবিব বলেন-" সম্প্রতি কেশিয়াড়ির এক বাসিন্দা একটি এফিডেফিট করতে এসে তা নকল হয়েছে বলে বুঝতে পেরে কতোয়ালী থানাতে অভিযোগ করেছিলেন ৷ সেই সুত্রে বিচারক জানতে পেরে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন ৷ তাতে উদ্ধার হয় জাল চক্রটি ৷ " তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে,পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর জেলা আদালত চত্বরের ভেতরেই কম্পিউটার সেন্টার খুলে জেরক্স ও নথি টাইপিং প্রিন্টিং করে ব্যবসা করছিল ওই যুবক বাপি পন্ডা। এই ব্যবসার মাঝে আদালতের বিচারকের স্বাক্ষর ও স্ট্য়াম্প নকল করে নকল নোটারি পেপার তৈরী করে বিক্রি করছিল সে ৷ কাগজপত্রে বিচারকের নকল স্টাম্প ব্যবহার করতো সে। সেই সঙ্গে নকল স্ট্যাম্প পেপারও বিক্রি করতো। বেশ কিছুদিন ধরেই এই ব্যবসা শুরু করেছিল সে। তার কাছ থেকে দেওয়া এই সমস্ত নকল জিনিসপত্র কতোয়ালিতে অভিযোগের পরে হাতঘুরে বিচারকদের কাছে পৌঁছে ছিল। সেগুলি দেখে বুঝতে পেরে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে তদন্তের কথা জানিয়েছিলেন বিচারকগণ। এরপরই জেলা পুলিশের একটি দল তদন্তের পর বৃহস্পতিবার সন্ধায় মেদিনীপুর আদালত চত্বরে থাকা ওই কম্পিউটার সেন্টারটিতে অভিযান চালায় । অতর্কিত অভিযানে তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণে নকল সামগ্রী। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে, বিচারকের নকল স্ট্যাম্প, নকল স্ট্যাম্প পেপার। পুলিশ সবগুলি খতিয়ে দেখে কম্পিউটার সহ দোকানের যাবতীয় সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে।সিল করে দেয় দোকানটি ৷
পাশেই থাকা মেদিনীপুর আদালতের এক আইনজীবী অপূর্ব চক্রবর্তী বলেন-"আদালত চত্বরে থাকা বাপি কম্পিউটার সেন্টারে জেরক্স ও কম্পিউটার টাইপিং সাধারণত হয়ে থাকতো। কিন্তু এর মাঝেই সে বিচারকের স্টাম্প, নকল স্ট্যাম্প পেপার নোটারি তৈরি করে প্যারালালী নোটারি পেপার বিক্রি শুরু করে দিয়েছিল। বিচারক বুঝতে পেরে পুলিশকে জানিয়েছিলেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে সব উদ্ধার করেছে ,গ্রেপ্তার করেছে তাকে।"


কোন মন্তব্য নেই