ঘাটাল নয়, জেলার উল্টো প্রান্তে ভয়াবহ বন্যা! ৪০ হাজার মানুষ প্রভাবিত, মৃত্যু ২ জনেরনারায়ণগড়: ঘাটাল নয়, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার উল্টো প্রান্তে এবার বন্যার ভয়াবহ প্রভাব। অতি বৃষ্টির জেরে জেলার সবং, নারায়ণগড়, দাঁতন ও মোহনপুরের…
ঘাটাল নয়, জেলার উল্টো প্রান্তে ভয়াবহ বন্যা! ৪০ হাজার মানুষ প্রভাবিত, মৃত্যু ২ জনের
নারায়ণগড়: ঘাটাল নয়, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার উল্টো প্রান্তে এবার বন্যার ভয়াবহ প্রভাব। অতি বৃষ্টির জেরে জেলার সবং, নারায়ণগড়, দাঁতন ও মোহনপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা গত কয়েকদিন ধরে জলমগ্ন। প্রশাসনের হিসেব অনুযায়ী, এই বন্যায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষ প্রভাবিত হয়েছেন। বন্যার জলে ডুবে এক শিশু-সহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
বন্যার জেরে সবচেয়ে বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে কৃষিক্ষেত্রে। জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, প্রায় ৩৮ হাজার হেক্টর চাষের জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় একাধিক এলাকায় ত্রাণ শিবির, মেডিকেল টিম, উদ্ধারকারী দল এবং কমিউনিটি কিচেন চালু রাখা হয়েছে।
১৬টি ত্রাণ শিবিরে ৭৮৯ জন
বন্যার জল কিছুটা কমতে শুরু করায় মঙ্গলবার অনেক মানুষ নিজেদের বাড়িতে ফিরে গিয়েছেন। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত পশ্চিম মেদিনীপুরের চারটি ব্লকে মোট ১৬টি ত্রাণ শিবির চালু ছিল। সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন ৭৮৯ জন।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সবংয়ে ৮টি, নারায়ণগড়ে ১টি, দাঁতনে ৬টি এবং মোহনপুরে ১টি ত্রাণ শিবির চালু রয়েছে। দুর্গত মানুষের জন্য একাধিক জায়গায় কমিউনিটি কিচেনও চালানো হচ্ছে। সেখানে রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বন্যাকবলিত এলাকায়।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যাকবলিত এলাকাগুলিতে মেডিকেল টিম এবং উদ্ধারকারী দলকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কোথাও পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সুবর্ণরেখার জল বাড়ায় নতুন আশঙ্কা
বন্যার জল বেশ কিছু এলাকায় কমতে শুরু করলেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে সুবর্ণরেখা নদীর জলস্তর। নদীর জল বাড়তে থাকায় যেসব এলাকায় বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে সেচ দপ্তরের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হচ্ছে।
এর মধ্যেই আরও একটি বিষয় নিয়ে সতর্ক রয়েছে প্রশাসন। মুকুটমণিপুর জলাধার থেকে জল ছাড়া শুরু হওয়ায় পরিস্থিতির উপর বাড়তি নজর রাখা হচ্ছে। জলস্তর এবং নদী-বাঁধের পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বন্যায় বড় ধাক্কার আশঙ্কা কৃষিতে
বন্যার ফলে বহু এলাকায় ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে কৃষিক্ষেত্রে। জেলা শাসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৮ হাজার হেক্টর জমির ফসল বন্যার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসেব তৈরি করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষিত কর্মীরা প্লাবিত এলাকায় গিয়ে কৃষিজমি ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন এবং সেই অনুযায়ী রিপোর্ট তৈরি করবেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, দাবি প্রশাসনের
বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা শাসক বীজিন কৃষ্ণ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে জলাধার থেকে জল ছাড়া এবং সুবর্ণরেখার জলস্তর বৃদ্ধির কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ঘাটাল মহকুমার পাশাপাশি এবার জেলার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তের সবং, নারায়ণগড়, দাঁতন ও মোহনপুরের বন্যা পরিস্থিতি প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জলস্তর কমলেও পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে জেলা প্রশাসন।
নোট: বন্যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং প্রভাবিত মানুষের সংখ্যা প্রশাসনের দেওয়া প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে এই পরিসংখ্যানও বদলাতে পারে।
পশ্চিম মেদিনীপুর,বন্যা,মেদিনীপুর বন্যা,সবং,নারায়ণগড়,দাঁতন,মোহনপুর,মুকুটমণিপুর জলাধার
সুবর্ণরেখা নদী,West Midnapore News,West Bengal Flood,Flood News,Medinipur News
Sabang News,Narayangarh News,
#পশ্চিমমেদিনীপুর #মেদিনীপুর #বন্যা #মেদিনীপুরবন্যা #সবং #নারায়ণগড় #দাঁতন #মোহনপুর #সুবর্ণরেখা #মুকুটমণিপুর #WestMidnapore #MedinipurNews #WestBengalFlood #FloodNews

কোন মন্তব্য নেই