মেদিনীপুর: ফের মেদিনীপুর শহরের উপকণ্ঠে হাজির হয়ে গেল দাঁতাল হাতি। পিকনিকের মরশুমে বড়দিনের পরের সন্ধাতেই জনপ্রিয় গোপগড় ইকোপার্কের লোহার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করল দাঁতাল হাতি। পার্কের ভেতর থেকে তখনো নিজেদের সরঞ্জাম গুটিয়ে পিক…
মেদিনীপুর: ফের মেদিনীপুর শহরের উপকণ্ঠে হাজির হয়ে গেল দাঁতাল হাতি। পিকনিকের মরশুমে বড়দিনের পরের সন্ধাতেই জনপ্রিয় গোপগড় ইকোপার্কের লোহার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করল দাঁতাল হাতি। পার্কের ভেতর থেকে তখনো নিজেদের সরঞ্জাম গুটিয়ে পিকনিক ছেড়ে ফেরত যাচ্ছেন পর্যটকরা। তাদের রক্ষা করে পার্ক নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম বনদপ্তর। সোমবারের সন্ধ্যায় হাতি বিভীষিকা তৈরি করল বনদপ্তরের কাছে। ২০২১ এর ২৫ শে ফেব্রুয়ারি মেদিনীপুর শহরে হাতি প্রবেশ করে যে আতঙ্ক তৈরি করেছিল, তা আটকাতে নাজেহাল হয়ে গেল বনদপ্তর।
রবিবার বড়দিনে কয়েক হাজার মানুষ মেদিনীপুর শহর সংলগ্ন গোপগড় ইকোপার্কে পিকনিক করতে ভিড় করেছিলেন। সোমবারও একই রকম ভিড় ছিল। পিকনিক সেরে পর পর সকলেই কমবেশি পার্ক ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। অনেকেই তখনও জিনিসপত্র গুছিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করছেন। সেই সময় পার্কের এক নম্বর গেট ভাঙ্গা শুরু করে দেয় একটি দাঁতাল হাতি।
সবেমাত্র ওই গেটের কাউন্টার বন্ধ করে কর্মীরা ফিরছিলেন। বিশাল লোহার গেট ভাঙার শব্দ পেয়ে অন্ধকারে বুঝে গিয়েছিলেন বনকর্মীরা যে হাতির প্রবেশ ঘটতে চলেছে। দ্রুত চেঁচিয়ে সকলকে সতর্ক করা শুরু হয়। ভেতরে থাকা পিকনিক করতে আসা লোকজনকে উল্টো দিকের দুই নম্বর গেট দিয়ে দ্রুত বের করে দেওয়া হয়। পার্কের দায়িত্বে থাকা বিট অফিসার মলয় নন্দী সহ অন্যান্যরা বনকর্তাদের খবর পাঠান। হাজির করানো হয় প্রায় ৩০ জনের বেশি সক্রিয় হুলাপার্টিকে।
রাতেই পার্কে হাজির হয়ে হাতি তাড়ানো শুরু করেন বনদপ্তরের এ ডি এফ ও বিজয় চক্রবর্তী, রেঞ্জার পাপন মাহান্ত, বিট অফিসার মলয় নন্দীসহ অন্যান্যরা। বিশাল বিশাল মশাল সহযোগ হুলা পার্টির সদস্যরা বিশাল জঙ্গলে ঘেরা পার্ক থেকে হাতিটিকে বের করার চূড়ান্ত চেষ্টা করেন। সন্ধ্যা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত সেই চেষ্টা চলে। প্রচুর কাটা গাছ ও জঙ্গলে পূর্ণ পার্কে একসময় হাতিটি নিখোঁজ হয়ে যায়। নিশ্চিত হতে অনেক রাত পর্যন্ত এই অভিযান চলে।
বনকর্তারা জানান-" পার্কের কর্তব্যরত কর্মীরা বুঝতে পেরেই ভেতরে থাকা লোকজনকে দ্রুত অন্য গেট দিয়ে বের করে দিয়েছে। হাতিটি দল বিচ্ছিন্ন হয়ে প্রবেশ করেছিল। চূড়ান্ত চেষ্টা চালানো হচ্ছে চাঁদড়ার জঙ্গলে পাঠানোর।"
২০২১ সালের ২৫ শে ফেব্রুয়ারি এভাবেই দল বিচ্ছিন্ন একটি হাতি
মেদিনীপুর শহরে প্রবেশ করেছিল। চূড়ান্ত আতঙ্ক তৈরি করেছিল শহর জুড়ে। বনদপ্তর ও
প্রশাসনকে নাজেহাল করে গভীররাতে হাতিটিকে ট্রাঙ্কুলাইজ করতে হয়। ক্রেন দিয়ে
লরিতে লোড করে জঙ্গলে ছেড়ে আসা হয়েছিল রাতে। ফের মেদিনীপুর শহরের উপকণ্ঠে পার্কে
এভাবে হাতির উদয় পুরনো আতঙ্ককেই জাগিয়ে দিয়েছিল বনকর্তাদের মনে। সেই সঙ্গে
পিকনিকের মরশুমে হাতিটিকে পাকাপাকিভাবে দূরে পাঠানোর উদ্যোগ নিতে হয়।


কোন মন্তব্য নেই