মেদিনীপুর: ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ফাইনাল দেখার জন্য ফুটবল জ্বরে আক্রান্ত ছিল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাও। বহু ভক্ত এই জয়ে আপ্লুত। এমনই এক ভক্ত তেলেভাজার দোকানদার নিজের দোকানকে নীল সাদা রঙের বেলুনের সাজিয়ে সোমবার সারাদিন তেলেভাজার সঙ্গে …
মেদিনীপুর: ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ফাইনাল দেখার জন্য ফুটবল জ্বরে আক্রান্ত ছিল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাও। বহু ভক্ত এই জয়ে আপ্লুত। এমনই এক ভক্ত তেলেভাজার দোকানদার নিজের দোকানকে নীল সাদা রঙের বেলুনের সাজিয়ে সোমবার সারাদিন তেলেভাজার সঙ্গে আগত খদ্দের কে বিলি করলেন রসগোল্লা। পথ চলতি কয়েকশো মানুষ তেলে ভাজা না কিনলেও রসগোল্লা খেয়েছেন এই আর্জেন্টিনা ও মেসি প্রেমির কাছ থেকে। অনেকেই বলছেন-"এমন ভক্ত বাড়লে ভারতবর্ষও একদিন বিশ্বকাপ ফুটবলে পৌঁছাবে।"
মেদিনীপুর শহরের বল্লভপুর এলাকার বাসিন্দা জয়দেব বরাট। পেশায় একজন তেলেভাজা দোকানদার। মেদিনীপুর শহরের গোলকোয়াচক সংলগ্ন এলাকায় রাস্তার পাশে ছোট্ট একটি দোকানে তেলেভাজা বিক্রি করে থাকেন। কিন্তু মনে-প্রাণে আর্জেন্টিনা ও মেসিভক্ত। ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ শুরু হতে তার দোকানে আর্জেন্টিনার টি শার্ট সব সময় টাঙ্গানো থাকতো। ছোটবেলা থেকেই ফুটবল প্রেমি সে। মনে প্রানে প্রার্থনা করছিলেন আর্জেন্টিনা যেন জয়লাভ করে। দোকানে আগত খদ্দেরদের সঙ্গেও ফুটবল নিয়েই চর্চা করতো। অবশেষে ফুটবল ফাইনালে আর্জেন্টিনা। দোকান বন্ধ করে সারাদিন উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করছিলেন মেসির জাদু দেখার জন্য। তার অতি ফুটবলপ্রেম ও মেসি ভক্তি অনেকের কাছে কটাক্ষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অনেক ব্যঙ্গ বিদ্রুপ সহ্য করতে হয় তাকে। রবিবার রাতে প্রতীক্ষিত আর্জেন্টিনা জয়লাভ করতেই কেঁদে ফেলেন।
সোমবার সকাল থেকে তার আনন্দ উচ্ছ্বাস দেখতে পান দোকানে আসা খদ্দেররা। ছোট্ট দোকানকে নীল সাদা বেলুন দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। তার মনের ফুটবলের ভগবান মেসির ছবি ছোট্ট দোকানে লাগানো হয়েছে। দোকানের ভেতরে দেবতাদের ফটোর নিচেই মারাদোনা ও মেসির ছবি। নিজে আর্জেন্টিনার মেসি নাম লেখা টি শার্ট গায়ে পড়ে আগত খদ্দেরদের তেলেভাজার সাথে রসগোল্লা দিয়েছেন হাসিমুখে। এমনকি রাস্তায় যাওয়া লোকজন কেও হেঁকে বলেছেন "আর্জেন্টিনা জিতেছে দাদা, মিষ্টি খেয়ে যান"।
জয়দেব বাবু বলেন-" ফুটবল আমার প্রাণ, তারপরেই আসে আর্জেন্টিনা ও মেসি। এর জন্য অনেকের কাছেই অনেক কিছু শুনতে হয়। এই ফুটবলে আমাদের দেশ থাকলে আরো ভালো লাগতো। ৮৬ সালের মারাদোনার খেলা দেখে আমার এই দলের প্রতি প্রেম বাড়ে । তবে কালকের জয় আমার অনেক দিনের স্বপ্ন পূরণ করে দিয়েছে। মেসি সব পেয়েছে এতদিন। এবার যা বাকি ছিল সেটাও পেয়ে গেল। আমি চাই মারাদোনার পাশের স্থান পাক মেসি।"
অন্যান্য দিনের তুলনায় তার দোকানে সোমবার সারাদিন ভিড় যেন একটু বেশিই ছিল। তেলেভাজা নিতে এসে মিষ্টি খেয়ে এসে শিক্ষিকা সুতপা বসু বলেন-" ওনার উৎসাহ তুলনাহীন। এরকম ফুটবল প্রেম নতুন প্রজন্মকে অনেকটা এগিয়ে দেবে। আমি ও আমরা নিজেরাও এই বিশ্বকাপ নিয়ে উন্মাদনায় ছিলাম। ওনার উদ্যোগটাও অপূর্ব।"
মেদিনীপুর শহরের বাসিন্দা জয়দীপ
নাগ বলেন-" ফুটবল বিশ্বকাপ যেদিন থেকে শুরু হয়েছে দোকানের সামনে সবসময়
পোস্টার ও বিভিন্ন জিনিস টাঙিয়ে রাখত মেসির। দোকানে বিক্রি করতো মেসির গেঞ্জি
পরে। আমরা মেসিকে নিয়ে খোঁচা দিতাম ওকে। যেদিন মেসির খেলা থাকতো রাতে খেলা দেখার
জন্য পরদিন দোকান বন্ধ থাকতো ওর। আজকে অনেক বেশি উৎফুল্ল। আর্জেন্টিনার রঙে দোকান
ও নিজে সেজেছে। দিনভর মিষ্টি বেরিয়েছে লোকজনকে। ভালো লাগলো ওর এই আনন্দ।"


কোন মন্তব্য নেই