Page Nav

HIDE

Grid Style

GRID_STYLE

Post/Page

Weather Location

Classic Header

Popular Posts

Just In :

latest

Jangalmahal :মাওবাদী আতঙ্ক কাটিয়ে জঙ্গলমহলের পিড়াকাটাতে প্রায় কুড়ি বছর পর কৃষক সভার জেলা কাউন্সিল,১১ বছর পর ৬২ জন মৃত কর্মীদের পরিবারের কাছে পৌঁছালো বামেরা

পিড়াকাটা: পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গলমহলে বাম আমলের শেষ দিকটা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিল। বিভিন্ন অভাব অভিযোগ তুলে জঙ্গলমহল মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মাওবাদীরা নিজেদের অস্তিত্ব প্রকাশ করেছিল। অন্যান্য স্থানের সঙ্…

 

পিড়াকাটা: পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গলমহলে বাম আমলের শেষ দিকটা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিল। বিভিন্ন অভাব অভিযোগ তুলে জঙ্গলমহল মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মাওবাদীরা নিজেদের অস্তিত্ব প্রকাশ করেছিল। অন্যান্য স্থানের সঙ্গে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি ব্লকেই মাওবাদীদের হাতে খুন হয়েছিল ৬২ জন বাম নেতা কর্মী। আতঙ্কে লাল পতাকা প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। অবশেষে স্বাভাবিক ছন্দের দিকে বামেরা। প্রায় কুড়ি বছর পর কৃষক সভার কাউন্সিল বৈঠক জঙ্গলমহলের সেই মাও অধ্যুষিত শালবনী থানার পিড়াকাটা এলাকায়। মাওবাদী পর্বে নিহত ও নিখোঁজ ৬২ কর্মীর কাছে পৌঁছে খোঁজ নিলেন নেতারা । নিহতের পরিবার গুলির হাতে সামান্য সাহায্য তুলে দিয়ে সমবেদনা জানিয়ে জানালেন 'পাশে আছি'। রবিবার লাল পতাকায় মুড়ে শালবনির পিড়াকাটা বাজারে মিছিল ও সভা করেন সুশান্ত ঘোষ সহ কৃষক সভার নেতারা। মঞ্চ থেকেই মাওবাদী ও তৃণমূলের নেতাদের হুঁশিয়ারি দিলেন সিপিআইএমের জেলা সম্পাদক সুশান্ত ঘোষ।

রবিবার সকাল থেকেই দেখা যায় শালবনির একসময়ের সেই মাওবাদী অধ্যুষিত পিড়াকাটা বাজারে নতুন লাল পতাকা লাগানো হয়েছে। সারা ভারত কৃষক সভার মিছিল ও কাউন্সিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল রবিবার। এই উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের ৭০ জন সদস্যকে ডাকা হয়েছিল পিড়াকাটা কমিউনিটি হলে। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সম্পাদক মেঘনাদ ভূঁইয়া ও সিপিআইএমের জেলা সম্পাদক সুশান্ত ঘোষ। গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে ওই এলাকায় প্রচারের চেষ্টা করলেও লাল পতাকায় মুড়ে সেভাবে অস্তিত্ব দেখাতে পারেনি সিপিআইএম। তাই ১১ সালের পারে কোনো ভালো হয় নি ওই এলাকাতে নির্বাচনে ৷ রবিবার অনেকটাই ভয় কাটিয়ে বেরিয়ে আসা সম্ভব হলো। বেলা ১১ টার পর জঙ্গলমহলের কয়েক হাজার বা নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মিছিল হল পিড়াকাটা বাজারে। এরপরে ছোট্ট একটি সভার আয়োজন করা হয়েছিল সংলগ্ন এলাকায়। বাম আমলের শেষ পর্বে মাওবাদীদের হাতে যে ৬২ জন বাম নেতাকর্মী খুন হয়েছিলেন তাদের পরিবারের অনেকের সদস্যদের হাজির করা হয়েছিল এই সভাতে। সভাতে মুখ্য বক্তা ছিলেন সুশান্ত ঘোষ।

একসময়ের মাও অধ্যুষিত পিড়াকাটাতে আয়োজিত সভা মঞ্চের বক্তৃতায় সুশান্ত ঘোষ আগা গোড়ায় মাওবাদী ও তৃণমূলের নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন। সুশান্ত ঘোষ মঞ্চে বলেন-" আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে মিডিয়াকে ব্যবহার করে একের পর এক খুন করা হয়েছিল। যারা এর নেতৃত্বে ছিলেন তারা মানুষের দিকে পেছন ঘুরিয়ে কথা বলতেন বন্দুক কাঁধে নিয়ে। লাল পতাকাকে উৎখাত করতে তৃণমূল ভাড়া করে এনেছিল এই মাওবাদী নেতা কিষানজীদের। মাওবাদী কার্যকলাপে এক সময় গ্রেপ্তার হওয়া এই শলবনির এক নেতা বর্তমান সরকারের উচ্চপদে। আর যিনি জঙ্গলমহলে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তিনি তো সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন এখন। এদের মানুষ আসল চেহারা বুঝতে পেরেছে বলেই আজ সাহস করে সকলে বেরিয়ে এসেছে।"

মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকাতে দীর্ঘদিন পরে জঙ্গলমহলে বড় মিছিল ও সভা করার পর সুশান্ত ঘোষ বলেন-" আগে চেষ্টা করলেও সেভাবে শাসকদলের চাপে প্রচার করা যায়নি। এখন সে পরিস্থিতি আর নেই। মানুষ ওদের ও বিজেপির আসল চেহারা বুঝতে পেরেছে। তাই ধীরে ধীরে সকলেই বের হতে শুরু করেছেন। তবে যে শাসক দলের নেতারা এখানে নেতৃত্ব দিতেন, খুন সন্ত্রাস চালিয়েছিলেন অপেক্ষা করুন তাদের পাপের শাস্তি তাদের পেতেই হবে।"





কোন মন্তব্য নেই