দাসপুর: পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালে এখন মেশিনে ধান কাটা মানেই আগুন লাগার আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছে চাষীদের, সেইসঙ্গে আধিকারিকদেরও। মাঠে থাকা ধান সন্ধ্যায় পাহারা দিচ্ছেন কৃষকেরা। রাতে খোঁজ নিচ্ছেন বিডিওরা। তার মাঝেই শনিবার সকালে দি…
দাসপুর: পশ্চিম মেদিনীপুরের
ঘাটালে এখন মেশিনে ধান কাটা মানেই আগুন লাগার আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছে চাষীদের, সেইসঙ্গে আধিকারিকদেরও। মাঠে থাকা ধান সন্ধ্যায় পাহারা দিচ্ছেন কৃষকেরা।
রাতে খোঁজ নিচ্ছেন বিডিওরা। তার মাঝেই শনিবার সকালে দিনের বেলা কেউ বা কারা আগুন
লাগিয়ে দিল ধান কেটে ফেলে রাখা জমির নাড়াতে। বাতাসে
ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ সে আগুন নেভাতে দৌড়ালো দমকল বাহিনী। দীর্ঘ চেষ্টা পর বাঁচাতে
সক্ষম হলো পাশাপাশি থাকা জমির বেঁচে থাকা ধানকে।আতঙ্ক বাড়ালো গ্রামবাসী ও চাষীদের৷
গত কয়েকদিন ধরেই পশ্চিম
মেদিনীপুরের ঘাটাল মহকুমাতে এমন ঘটনা বারবার ঘটে চলেছে। এই মহকুমার চন্দ্রকোনাতে
সম্প্রতি মেশিনের ধান কাটার পর পড়ে থাকা নাড়াতে কেউবা কারা আগুন লাগিয়ে দিচ্ছিল। গ্রামবাসীরা অনেক চেষ্টা করে নিভিয়েছিলেন।
ঘাটালের দলপতি পুরে সন্ধ্যের পর ফের একদল লোক নাড়াতে আগুন লাগানোর সময় মাঠেই
হাজির হয়েছিলেন স্থানীয় বিডিও সঞ্জীব দাস। হুঁশিয়ারি দিয়ে সকলকে সামাল
দিয়েছিলেন।
এরপর ফের একই ঘটনা ঘটেছে
চন্দ্রকোনার ক্ষীরপাই এলাকায়। রাতে পুলিশ বাহিনী নিয়ে গিয়ে চন্দ্রকোনার বিডিও
বিষয়টি খতিয়ে দেখেছিলেন। গ্রামবাসীদেরও বুঝিয়েছিলেন। প্রশাসন সক্রিয় সর্বত্র
নজর রাখা শুরু করেছিল। বিভিন্ন স্থানে কেটে নেওয়া ধান জমির পাশাপাশি
থাকা না কাটা ধান যাতে কোনোভাবে আগুনে কেউ ক্ষতি করে দেয় চাষীরাও সকাল সন্ধ্যা
নজর রাখছিলেন।
তার মাঝেই শনিবার সকালে দাসপুর থানার অন্তর্গত বৈদ্যপুর এলাকায় ফের ধান কেটে ফেলে রাখা নাড়াতে আগুন লাগিয়ে দেয় কেউ বা কারা। এদিন পরিস্থিতি এত বেশি ভয়াবহ আকার ধারণ করে যে পুলিশ ও দমকল বাহিনীকে ছুটে যেতে হয়। মাঠে লেগে যাওয়া ভয়াবহ আগুন এতটাই ছড়িয়ে ছিল, যাকে সামাল দিতে অনেকটা সময় লেগে যায় দমকল কর্মীদের। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন মাঠে না কাটা ধান জমির মালিকেরা।
গতবছর মেশিনে ধান কাটার পর পড়ে
থাকা নাড়াতে কেউবা কারা আগুন লাগিয়ে দেওয়ার কারণে পাশে না কাটা ধানের জমিতে
আগুন লেগে অনেক ধান নষ্ট হয়েছিল চাষীর। ক্ষতিপূরণ দাবি করে ঘাটালের বলরামগড়
এলাকায় গত বছর উত্তেজনাও তৈরি হয়েছিল। এবারও
সেই একই পরিস্থিতি যাতে না হয় তার জন্য সতর্ক হয়েছে প্রশাসন ও কৃষকেরা।

কোন মন্তব্য নেই