মেদিনীপুর: বিজেপির নেতৃত্বদের গোষ্ঠী কোন্দলের জের। জেলা কার্যালয়ের মধ্যেই বিজেপির জেলা সহ-সভাপতিকে বেধড়ক মারলেন বিজেপির মন্ডল সভাপতি। ভেঙে দেওয়া হল তার মোবাইলও। পুরো ঘটনার ছবি ধরা পড়েছে অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরাতে। ঘটনায় অস্ব…
মেদিনীপুর: বিজেপির নেতৃত্বদের গোষ্ঠী কোন্দলের জের। জেলা কার্যালয়ের মধ্যেই বিজেপির জেলা সহ-সভাপতিকে বেধড়ক মারলেন বিজেপির মন্ডল সভাপতি। ভেঙে দেওয়া হল তার মোবাইলও। পুরো ঘটনার ছবি ধরা পড়েছে অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরাতে। ঘটনায় অস্বস্তিতে বিজেপি। তবে তৃণমূলের দাবি-" দিলীপ ঘোষ তার কর্মীদের সামনে যে মেরে দেবো কেটে দেবো বলে যায়, এটা তারই ফল।"
জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেলে জেলা পার্টি অফিসে হাজির হয়েছিলেন গড়বেতার মণ্ডল সভাপতি ঠাকুর দাস মিদ্যা। একটি দলীয় বৈঠকের জন্য পতাকা ও বিভিন্ন জিনিসপত্র আনতে জেলা কার্যালয়ে হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু সেই সমস্ত জিনিসগুলি দেওয়ার আগে মন্ডল সভাপতির কাছে পুরনো জিনিসের হিসাব দেখতে চেয়েছিলেন বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি ড: শঙ্কর গুছাইত। তাতেই রেগে যান ওই মন্ডল সভাপতি ঠাকুরদাস মিদ্দা। এতে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বচসা তৈরী হয়। এরপর দুপক্ষের মধ্যেই বেঁধে যায় হাতাহাতি। সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে বিজেপির জেলা জেলা সহ-সভাপতিকে বেধড়ক চড় কিল ঘুষি মেরে চলেছেন ওই মন্ডল সভাপতি। এমনকি শঙ্কর গুছাইতের কাছ থেকে তার মোবাইলটি ছিনিয়ে নিয়ে সেটিকেও ভেঙে দেওয়া হয়। জেলা কার্যালয়ের ভেতরেই বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলে এই সব তাণ্ডব । পরে অন্যান্য কর্মীরা এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
জানা গিয়েছে অতি সম্প্রতি গড়বেতার দায়িত্ব পেয়েছেন জেলা বিজেপির এই দাপুটে নেতা ঠাকুর দাস মিদ্দা। বিজেপির মধ্যে যে দুটি গোষ্ঠী রয়েছে তার মধ্যে জেলা সভাপতির অনুগামী এই ঠাকুরদাস মিদ্দা। অন্যদিকে শংকর গুছাইত তথা জেলা সহ-সভাপতি অন্যগোষ্ঠীর।গড়বেতা এলাকায় একটি বৈঠকে দুজনের মধ্যে বিবাদের সূত্রপাত হয়েছিল। সেই গন্ডগোলের জের থেকেই পুরনো রাগে এই আক্রমণ।
এ বিষয়ে আক্রান্ত বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি ড: শংকর গুছাইত বলেন-" বিষয়টা যা হয়েছে সিসি টিভিতে হয়েছে। আমি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়েছি। এর বাইরে সংবাদ মাধ্যমে কিছু বলবো না।"
তবে এই ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপির জেলা নেতারা। কার্যালয়ের ভেতরে হামলার এই ঘটনার ভিডিও প্রায় ভাইরাল। তৃণমূলের জেলা কোঅর্ডিনেটের অজিত মাইতি বলেন-" এটাই বিজেপির কালচার। যার দলের শীর্ষ নেতা দিলীপ ঘোষ প্রতিটা মঞ্চেই বলবে মেরে দেবো কেটে দেবো হাত-পা ভেঙে দেবো। তাদের কর্মীদের এই শিক্ষাই হবে। তাই যা ফল হওয়ার হয়েছে।"

কোন মন্তব্য নেই