খড়গপুর: কুড়মী সম্প্রদায়ের অবরোধের কারনে কষ্টের চরম সীমায় জাতীয় সড়কের ওপরে পাঁচ দিন ধরে ঠাই দাঁড়িয়ে থাকা ভীন রাজ্যের লরি চালকদের। নেই পানীয় জল খাবার। দূর দূরান্তের দোকানগুলি থেকে এক টাকার জিনিস এখন পাঁচ টাকায় কিনতে হচ্ছ…
খড়গপুর: কুড়মী সম্প্রদায়ের অবরোধের কারনে কষ্টের চরম সীমায় জাতীয় সড়কের ওপরে পাঁচ দিন ধরে ঠাই দাঁড়িয়ে থাকা ভীন রাজ্যের লরি চালকদের। নেই পানীয় জল খাবার। দূর দূরান্তের দোকানগুলি থেকে এক টাকার জিনিস এখন পাঁচ টাকায় কিনতে হচ্ছে। দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িগুলির ব্যাটারি বসে গিয়েছে।ফলে সামান্যও চাইলে অনেকগুলি গাড়িকে চালু করা যাচ্ছেনা ৷ গ্যাস ভর্তি ট্যাঙ্কারগুলি টানা রোদে দাঁড়িয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কায়।
কুড়মী সম্প্রদায়ের রেল ও জাতীয় সড়ক অবরোধ আন্দোলনের কারণে তীব্র যানজট ও জাতীয় সড়কে দাঁড়িয়ে থেকে হয়রান হচ্ছেন ভিন রাজ্য থেকে আসা লরি চালকেরা। ৬ নাম্বার ও ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কে খড়্গপুরের রূপনারায়নপুর এলাকায় কয়েক হাজার লরি টানা পাঁচ দিন দাঁড়িয়ে। গাড়িতে থাকা মাছ ও অন্যান্য সামগ্রীর অনেক গুলিতে পচন ধরেছে। কোথাও আবার ঠাই রোদে জাতীয় সড়কের উপর সার দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে হলদিয়া থেকে আসা গ্যাস ভর্তি ট্যাংকার। যেখান থেকে বিস্ফোরণের আশঙ্কা বা আগুন ধরে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন গাড়ি চালক খালাসীরা।তাদের দাবি- ট্যাঙ্কারগুলি রোদে দীর্ঘদিন দাঁড়িয়ে রয়েছে ৷ অতিরিক্ত উত্তাপ সীমা ছাড়ালেই সেফটি ভাল্ভ খোলার সম্ভাবনা প্রবল ৷ ফলে সেখান থেকে আগুন লাগা বা অন্য দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে ৷
এমনই এক গাড়ির চালক মহসিন খান বলেন-" টানা ৫ দিন ধরে জাতীয় সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছি ভর্তি গ্যাস নিয়ে। গাড়ির উত্তাপ বাড়ছে। এতে যে কোন সময় গ্যাস লিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সেফটি ভাল্ব উড়ে গিয়ে। তাতে যে কোনো রকমের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এই জাতীয় সড়কে।"
ভিন রাজ্য থেকে আসা আরও এক গাড়ির চালক বলেন-" এখানে আর খাবারের কোন জিনিস পাওয়া যাচ্ছে না ফাঁকা মাঠে। দূরের দোকানগুলিতে এক টাকার জিনিস ৫০ টাকায় আনতে হচ্ছে। অবিলম্বে এ রাজ্যের সরকারে থাকা দিদি আমাদের দিকে দেখুন। আমাদের অনেক কষ্ট বেড়ে যাচ্ছে।আমাদের টাকাও শেষ ৷ " অন্যদিকে কুড়মী সম্প্রদায়ের আন্দোলন অব্যহত রয়েছে ৷ খেমাশুলীতে রেল অবরোধ রেখেছে তারা ৷ বন্ধ রয়েছে জাতীয় সড়কেও ৷ শনিবার রাজ্যের মন্ত্রী মানস রঞ্জন ভুঞা বলেন- আমাদের সরকার কুড়মীদের আন্দোলনে সহানুভূতীশীল, রাজ্য সরকার সেই মতো বার্তাও দিয়েছে ৷ কিন্তু কেন্দ্রের সরকার কোনো রকমের মুখ খোলা বা পদক্ষেপ নিচ্ছেনা ৷ এটা নিন্দনীয় ৷

কোন মন্তব্য নেই