সবং: দ্রুত সম্পত্তি হাতাতে নিজের বাবা- মা এর ওপরে চলত অকথ্য অত্যাচার ৷ লিখে দিতে হবে সমস্ত কিছু অবিলম্বে ৷ সব হারিয়ে বাড়ি ছাড়া হওয়ার ভয়ে বাবা-মা লিখে দিতে পারেননি ৷ বাবা-কে মেরে হাত পা ভেঙ্গে দিয়েছিল দুই গুনধর ছেলে ৷ তারপরও থাম…
সবং: দ্রুত সম্পত্তি হাতাতে নিজের
বাবা- মা এর ওপরে চলত অকথ্য অত্যাচার ৷ লিখে দিতে হবে সমস্ত কিছু অবিলম্বে ৷ সব
হারিয়ে বাড়ি ছাড়া হওয়ার ভয়ে বাবা-মা লিখে দিতে পারেননি ৷ বাবা-কে মেরে হাত পা ভেঙ্গে দিয়েছিল দুই গুনধর ছেলে ৷ তারপরও থামেনি
অত্যাচার ৷ অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে দুমাস আগে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয় মা৷ এরপর পড়ে বাবা-র পালা ৷ শেষে নিজের বাবাকে খুন করে নিজেদের বাড়ির
সেফটিক ট্যাঙ্কে লুকিয়ে দেয় দেহ৷ প্রতিবেশীদের দীর্ঘদিন নিখোঁজ দেখে সন্দেহ হওয়াতে
পুলিশকে জানায়৷ তদন্তে নেমে পুলিশ বড়ছেলের বাড়ির সেফটিক
ট্যাঙ্ক থেকে বৃদ্ধের পচাগলা দেহ উদ্ধার করল সোমবার বিকালে৷ ধরা পড়ার আগেই
ফেরার বড়ো ছেলে৷ তবে গ্রেফতার ৫৷ ভয়াবহ নৃশংসতায় হতভম্ভ স্থানীয়রা
৷
ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং থানার পেরুর গ্রামে৷ ওই গ্রামের বাসিন্দা সুভাষ প্রামানিক(৬০)এর দুই ছেলে দীপঙ্কর ও শুভঙ্কর প্রামানিক৷ মধ্যবিত্ত পরিবারের দুজনেরই চাষবাস ছা়ড়াও বড়ো ছেলে দীপঙ্কর রাজমিস্ত্রির কাজ করেন৷ এই দুই ভাই বাবার নামে থাকা সম্পত্তি হাতাতে বিভিন্ন ভাবে অত্যাচার চালাতো বলে অভিযোগ স্থানীয়দের ৷ অন্যদিকে বৃদ্ধ সভাষ বাবু ও তাঁর স্ত্রী সম্পত্তি লিখে দিলে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার ভয় করতেন৷ তাই পরে লিখে দেওয়ার কথা বলতেন তাঁদের ৷ তাতেই অত্যাচার চলত ছেলেদের ৷ বাবা- মা কে মারধোর চলতো ৷ গত এক বছর আগে বাবা সুভাষ প্রামানিককে মেরে হাত ভেঙে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে৷ অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে গত দুমাস আগে মা গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন বলে দাবি স্থানীয়দের৷ তার জন্য ছেলেদেরই দোষী করতেন বৃদ্ধ সুভাষ বাবু ৷ তাতে অত্যাচার বাড়তো বলেই দাবি ৷ এরই পরে গত ২৫ দিন ধরে হটাত নিখোঁজ হয়ে যান সুভাষ বাবু ৷ প্রতিবেশীরা দেখেন -দুই ছেলের মধ্যে আচরনে পরিবর্তন হয়েছে৷ জমি ভাগ করছে৷ বাড়িতে থাকা বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করছে একের পর৷ তারপরই স্থানীয় ৫ জন প্রতিবেশী বাসিন্দা সন্দেহ করে সবং থানায় জানায় ৷
প্রতিবেশী বিধান পাত্র বলেন- "একদিন রাতে ওদের বাবাকে মারধোরের বিষয়টি আমরা শুনতে পাই ৷ তারপর থেকে ওদের বাবা নিখোঁজ, অথচ জিনিসপত্র বিক্রি বন্টন হচ্ছে দেখে সন্দেহ হয় ৷ এরপরে আমরা খোঁজ করে জানতে পারি কোনো আত্মীয়ের বাড়িতেও ওদের বাবা নেই ৷ এরপরই আমরা সবং থানায় জানাই৷ পুলিশ দুদিন ধরে জেরা করে দুই ছেলেকে ৷ "



কোন মন্তব্য নেই