নয়াগ্রাম:-ঝাড়গ্রাম জেলাতে হাতির তান্ডব চলছে প্রায় রোজই ৷ প্রানহানির ঘটনাও অব্যহত ৷ সতর্ক ছিল পশ্চিম মেদিনীপুরের বনবিভাগ ৷ শুক্রবার বিকালে নয়াগ্রামের জঙ্গলে দল বিচ্ছিন্ন হাতির উপস্থিতি জানতে পেরে ঐরাবত গাড়ি নিয়ে বনকর্মীরা প্রস্ত…
নয়াগ্রাম:- ঝাড়গ্রাম
জেলাতে হাতির তান্ডব চলছে প্রায় রোজই ৷ প্রানহানির ঘটনাও অব্যহত ৷ সতর্ক ছিল
পশ্চিম মেদিনীপুরের বনবিভাগ ৷ শুক্রবার বিকালে নয়াগ্রামের জঙ্গলে দল বিচ্ছিন্ন হাতির উপস্থিতি জানতে পেরে ঐরাবত গাড়ি নিয়ে বনকর্মীরা
প্রস্তুত ছিলেন৷ সতর্ক করেছিলেন অনেককেই৷ এরপর মেদিনীপুর সদরের নয়াগ্রাম এলাকার পাশপাশি সম্ভাব্য হাতির গতিপথ আটকে চোরকি
কাটছিল বনদফতরের গাড়ি৷ বর্ষার বৃষ্টি উপেক্ষা করেও রাতে ঐরাবত গাড়ি নিয়ে বনকর্মীরা সজাগ ছিলেন ৷ তারপরেও
রাত দশটার পর তাদের চোখে ফাঁকি দিয়ে অন্যপথে গ্রামে ঢুকে পড়ে একটি দাঁতাল হাতি৷ শুক্রবার রাত দশটা নাগাদ পৌঁছে যায় নয়াগ্রাম এলাকায়। সেখানে নৃপেন
নায়েক নামে এক ব্যক্তির বাড়ির মাটির দেওয়াল ভেঙে লুঠ করে খায় চাল ও অন্যান্য দানা শস্য ৷ গ্রামবাসীদের তাড়াতেও ভ্রুক্ষেপ ছিলনা বেপরোয়া হাতিটির ৷
নৃপেনবাবুর স্ত্রী বিশাখা নায়েক বলেন, "খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘুমোতে গিয়েছি। সেই সময় হঠাৎ দেওয়াল ভাঙার শব্দ শুনতে পাই। জানালা দিয়ে দেখি হাতি দেওয়াল ও ছাউনির অ্যাসবেসটস ভাঙছে। তারপর আমরা সরে যাই ভয়ে ৷ লোকজনকে ডেকে হাতিটাকে তাড়ানোর চেষ্টা করলেও লাভ হয় নি ৷ ছিটেবেড়ার দেওয়াল ভাঙার পরে মাটির দেওয়ালটাকেও ভেঙে ফেলে৷ ভেতরে থাকা চাল বস্তা বের করে পুরোটাই খেয়ে ফেলে। পরে স্থানীয় বাসিন্দা এবং বন কর্মীরা এসে হাতিটিকে জঙ্গলের দিকে তাড়িয়ে ফেরত পাঠায়।" ঘটনার পরে বনদফতরের আস্বাস থাকলেও আতঙ্কিত স্থানীয়রা ৷
জঙ্গলমহল জুড়ে হাতির তাণ্ডবে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। ভেঙে ফেলছে একের
পর এক বাড়ি। ঝাড়গ্রাম থেকে পশ্চিম মেদিনীপুর সর্বত্রই খাবারের খোঁজে হানা হচ্ছে দলমার দাঁতালদের। ঘটছে প্রাণহানির ঘটনাও।
সন্ধ্যা হলেই হাতির তাণ্ডবের আতঙ্কে দিন কাটছে জঙ্গলমহলবাসীর। যদিও
বন দফতরের দাবি, হাতিগুলিকে
সরানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতে ঝাড়গ্রামে পুকুরিয়া এলাকায় হাতির
তাণ্ডবের পর এবার পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর সদর ব্লকে বাড়ির দেওয়াল ও
অ্যাসবেসটস ভেঙে চাল বের করে খেয়ে নেওয়াতে আতঙ্ক খানিকটা বাড়লো নতুন করে ৷ কারন মাঠে খাবার ফসল নেই এই মুহুর্তে৷ ফলে খাবারের খোঁজে পুনরায় লোকালয়ে
প্রবেশের আশঙ্কা থাকছেই ।
কোন মন্তব্য নেই