মেদিনীপুর: ফল ঘোষণায় বিজেপি জয়লাভ করতেই তৃণমূলের পার্টি অফিসের রং পাল্টে গিয়েছিল। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা পার্টি অফিস ছাড়া হয়ে যেতেই সেই পার্টি অফিসের একদল কর্মী গেরুয়া হয়েছিলেন ৷পরে অফিসের নিয়ন্ত্রন নিয়েছিল বিজেপির কর্মী সমর্থ…
মেদিনীপুর: ফল ঘোষণায় বিজেপি জয়লাভ করতেই তৃণমূলের পার্টি অফিসের রং পাল্টে
গিয়েছিল। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা পার্টি অফিস ছাড়া হয়ে যেতেই সেই পার্টি অফিসের একদল কর্মী গেরুয়া হয়েছিলেন ৷পরে অফিসের
নিয়ন্ত্রন নিয়েছিল বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। রাতারাতি সেই সমস্ত
পার্টি অফিস গেরুয়া রং নিয়ে রঙিন হয়ে গিয়েছিল। এক একটা অফিসের নাম এক এক রকম দেওয়া হয়েছিল। গেরুয়া করণ করে বিজেপির বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালিত
হতো সেখান থেকেই। মেদিনীপুর শহরের প্রধান রাস্তার পাশে থাকা
এমন তিন রাজনৈতিক কার্যালয়কে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল পূর্ত দপ্তর। রবিবার সকাল থেকে
সেই কাজ হল পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে। পূর্ত দপ্তরের জমিতে অবৈধ নির্মাণ ছিল-এমন
অভিযোগ করে ভেঙে ধুলিস্যাৎ করে দেওয়া হলো দিনভর। তবে দখল করে ভেতরে যে সমস্ত
জিনিসপত্র রেখেছিলেন বিজেপি কর্মীরা, সেই সমস্ত জিনিস অবশ্য বের করে নিতে সুযোগ পেয়েছিলেন।
অন্যদিকে পরিস্থিতি দেখে ভয়ে কাঁপছেন ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা। বিষয়টিতে কটাক্ষ বামেদের ৷ সমর্থন করে হকারদের জন্য নমনীয় হতে
দাবি কংগ্রেসের ৷
২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণাতে ৪ মে তৃণমূলের ভরাডুবি হয়েছিল। বিপুল
সংখ্যা গরিষ্ঠতায় জয়লাভ করেছিল বিজেপি। তারপরেই তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় ছেড়ে
পালিয়েছিলেন বেশিরভাগ তৃণমূলের নেতাকর্মী।যারা রয়ে গিয়েছিলেন তাঁরা বিজেপি হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ৷
মেদিনীপুরের এমন বেশ কিছু তৃণমূলের কার্যালয় দখল করে সেখানে গেরুয়া রং করে
দিয়েছিলেন বিজেপি কর্মীরা। মেদিনীপুর শহরের বুকে থাকা এমন তিনটি কার্যালয়কে দখল
করে সেখান থেকে নিজেদের কর্মসূচি পরিচালনা করছিলেন বিজেপির এক শ্রেনীর কর্মীরা।
আলাদা পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল ওই পার্টি অফিস গুলিকে।
যেমন মেদিনীপুর শহরের পঞ্চুরচকে একসময়ের জেলা যুব তৃণমূলের সভাপতি প্রসেনজিৎ
চক্রবর্তীর হাতে তৈরি যুব তৃণমূলের কার্যালয় ছিল যেটা,
সেটিকে দখল করে গেরুয়া রঙে রঙিন করে নাম দেওয়া হয়েছিল
"মেদিনীপুর সনাতনী সংঘ ", সেখান থেকে কিছুটা দূরে গোলকুয়া চক সংলগ্ন এলাকায়
তৃণমূলের একটি ক্লাব বনাম কার্যালয় ছিল। সেটিকেও একইভাবে দখল করে গেরুয়া রং করে নাম দেওয়া হয়েছিল- "
যুব হিন্দু সংঘ"। এলআইসি মোড়ের দলীয় কার্যালয়টি গেরুয়া রং করা হলেও তেমন
নাম নেওয়া হয়েছিল না। এই তিনটি দলীয় কার্যালয়কে রবিবার বেলা বারোটা থেকে
বুলডোজার নিয়ে মাঠে নেমে পরপর ভেঙে দিলেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
পূর্ত দপ্তরের বক্তব্য-"সেগুলি পূর্ত দপ্তরের পিচ রাস্তার ওপরে তৈরি ছিল।
সম্পূর্ণ অবৈধ নির্মাণ সেগুলি। তাই ভেঙে ফেলা হচ্ছে।" সেই সাথে পূর্ত দপ্তরের
পিচ রাস্তার পাশে থাকা বিভিন্ন ফুটপাতের দোকানদারদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ৪১ জনকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে দশ দিনের মধ্যে উঠে যাওয়ার জন্য।
তারপরে সেগুলিও ভেঙে ফেলা হবে বলে জানানো হয়েছে। পুজোর আগে এই বিশাল অভিযান ঘিরে
মেদিনীপুর শহরে এখন তোলপাড় পরিস্থিতি। মেদিনীপুরে বাম যুবনেতা কুন্দন গোপ বলেন- “অনেকে আপদ তাড়াতে বিজেপিকে সমর্থন করেছিলেন
৷ এখন ভালো করে বুঝছেন আপদ তাড়াতে গিয়ে বিপদ এনেছেন ৷ এখন ফল তো ভুগত হচ্ছে গরীবদের
৷”পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা কংগ্রেসের সম্পাদক সঞ্জীব শীট বলেন- “ তৃণমূল
যে অবৈধ নির্মানগুলি করেছিল,তা ভেঙে দেওয়া হোক। পূর্ণ সমর্থন রইলো। কিন্তু গরীব
হকারদের ক্ষেত্রে উচ্ছেদের আগে পুনর্বাসনের ব্যাবস্থা হোক । ”
#Medinipur #Midnapore #BreakingNews #WestBengal #BJP #TMC #BulldozerAction #PWD #PoliticalNews #BengalPolitics #MedinipurLive #বাংলাখবর #মেদিনীপুর #বুলডোজার #উচ্ছেদঅভিযান #রাজনীতি #Breaking

কোন মন্তব্য নেই