Page Nav

HIDE

Grid Style

GRID_STYLE

Post/Page

Weather Location

Classic Header

Popular Posts

Just In :

latest

Medinipur : তৃণমূল আমলে বন্ধ, বিজেপি আমলে ফের খোলার আশা! মেদিনীপুরের বিড়লা মিল ঘিরে নতুন উদ্যোগ

মেদিনীপুর: মেদিনীপুর শহরের উপকণ্ঠে তাঁতিগেড়িয়া এলাকার বিড়লা স্পিনিং মিল একসময় জেলার অন্যতম বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল। সুতো উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত এই কারখানায় একসময় প্রায় ৯০০ শ্রমিক কাজ করতেন। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন…

 

মেদিনীপুর: মেদিনীপুর শহরের উপকণ্ঠে তাঁতিগেড়িয়া এলাকার বিড়লা স্পিনিং মিল একসময় জেলার অন্যতম বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল। সুতো উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত এই কারখানায় একসময় প্রায় ৯০০ শ্রমিক কাজ করতেন। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি উত্তর প্রদেশ, বিহার ও ওড়িশা থেকেও বহু শ্রমিক এখানে কর্মরত ছিলেন।

কিন্তু প্রায় ১৬ বছর আগে হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় কারখানাটি। প্রাক্তন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, রাজনৈতিক চাপ, শ্রমিক সংগঠনের দ্বন্দ্ব এবং বিভিন্ন দাবিদাওয়ার জেরে কারখানা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছিল। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বর্তমানে পাওয়া যায়নি।

কারখানা বন্ধ হওয়ার ফলে এক ধাক্কায় কাজ হারান শত শত শ্রমিক। শুধু চাকরিই নয়, অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে তাঁদের পরিবারও। বহু শ্রমিক কারখানা সংলগ্ন কোয়ার্টারে বসবাস করতেন। তাঁদের অভিযোগ, বকেয়া বেতন না মিটিয়েই কারখানা কর্তৃপক্ষ এলাকা ছেড়ে চলে যায়। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা সেই কোয়ার্টারেই বসবাস করে আসছেন।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। অনেক কোয়ার্টার এখন ভগ্নপ্রায়। বেশিরভাগ জায়গায় নেই নিয়মিত বিদ্যুৎ বা পানীয় জলের ব্যবস্থা। তবুও জীবিকার অভাবে এবং অন্য কোথাও যাওয়ার উপায় না থাকায় বহু পরিবার এখনও সেখানে বসবাস করছে।

প্রাক্তন কর্মী মঞ্জি প্রসাদ জানান, তিনি প্রায় ২০ বছর কারখানার টেকনিক্যাল বিভাগে কাজ করেছেন। কারখানা বন্ধ হওয়ার পর পরিবার নিয়ে চরম সংকটে পড়তে হয় তাঁকে। বর্তমানে বিভিন্ন অস্থায়ী শ্রমের কাজ করে সংসার চালাতে হচ্ছে। তাঁর দাবি, কারখানা পুনরায় চালু হলে বহু মানুষের জীবন আবার স্বাভাবিক হতে পারে।

একই কথা বলছেন স্থানীয় বাসিন্দা নয়ন দাসও। তিনি জানান, কারখানার পাশাপাশি সামনে একটি দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে তাঁর ব্যবসাও কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বন্ধ থাকা এই শিল্প প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নিয়ে সম্প্রতি নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর বিষয়টি সামনে আসে। প্রাক্তন শ্রমিকদের একাংশ তাঁদের সমস্যার কথা স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক ডাঃ শঙ্কর গুছাইতের কাছে তুলে ধরেন।

বিধায়ক জানান, বন্ধ হয়ে থাকা শিল্প ও অবকাঠামো প্রকল্পগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় বিড়লা মিল পুনরায় চালুর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে তিনি কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রকের কাছে বিষয়টি জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

বর্তমানে হাজারো প্রশ্নের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই—মেদিনীপুরের ঐতিহ্যবাহী বিড়লা মিল কি আবার চালু হবে? যদি হয়, তাহলে বহু বছর ধরে কর্মহীন হয়ে পড়া শত শত পরিবার নতুন করে জীবনের আলো দেখতে পারে বলেই আশা করছেন প্রাক্তন শ্রমিকরা।


#BirlaMill #Medinipur #MedinipurNews #WestBengal #TextileIndustry #ShankarGuchait #BJP #IndustryNews #PaschimMedinipur #MedinipurLive #BreakingNews #WestBengalNews

বিড়লা মিল মেদিনীপুর, Birla Spinning Mill Medinipur, Medinipur Birla Mill, মেদিনীপুর কারখানা, বন্ধ কারখানা পশ্চিমবঙ্গ, শঙ্কর গুছাইত, Medinipur News, West Bengal Industry News, Textile Mill West Bengal, Birla Mill Reopen, Medinipur Live, তাঁতিগেড়িয়া বিড়লা মিল


কোন মন্তব্য নেই