কেশপুর: অবশেষে শেষ রক্ষা হল না কেশপুরের মুগবাসান এলাকার সেই লরির খালাসী নাজমুল সাকিন এর ৷ কলকাতার পিজি হাসপাতালে চিকিত্সা চলাকালীন বুধবার বিকালে তাঁর মৃত্যু হয় ৷ গত ২৫ নভেম্বর ওড়িষ্যা থেকে লরিতে কয়লা নিয়ে খড়্গপুরে ঢোকার মুখে লর…
কেশপুর: অবশেষে শেষ
রক্ষা হল না কেশপুরের মুগবাসান এলাকার সেই লরির খালাসী নাজমুল সাকিন এর ৷ কলকাতার
পিজি হাসপাতালে চিকিত্সা চলাকালীন বুধবার বিকালে তাঁর মৃত্যু হয় ৷
গত ২৫ নভেম্বর ওড়িষ্যা থেকে লরিতে কয়লা নিয়ে খড়্গপুরে ঢোকার মুখে লরিতে আক্রমন
হয়েছিল মাজমুলের ওপরে ৷ রক্তাক্ত অবস্থায় রাত ৩ টা নাগাদ মেদিনীপুর
হাসপাতালে ভর্তি করেছিল গাড়ির চালক আমানুর হক ৷ বলেছিল-ছিনতাই কারীরা গুলি
চালিয়েছে ৷ পরে পুলিশ জেরা করে জানতে পারে – নাজমুলের স্ত্রীর সাথে পরকীয়া থেকে
পরিকল্পিতভাবে স্ক্রু ড্রাইভার থেকে ঘুমন্ত নাজমুলকে খুনের চেষ্টা করেছে আমানুরই ৷
তারপর থেকেই আশঙ্কাজনক নাজমুল চিকিত্সাধীন ছিল ৷ বুধবার সে মারা যায়া কলকাতার
পিজিতে ৷
কেশপুরের মুগবাসান
এলাকার বাসিন্দা নাজমুল সাকিন(২২) লরির খালাসির কাজ করতেন। নাজমুলের পিসির ছেলে
আমানুর হক ওই লরিতেই চালক হিসেবে কাজ করেন। গত ২৫ শে নভেম্বর রাতে নাজমুলকে
রক্তাক্ত অবস্থায় মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে সে। লরির চালক
আমানুর পুলিশকে জানিয়েছিল-“খড়গপুর গ্রামীন থানার অন্তর্গত জকপুর রেল ব্রিজের কাছে চালক ও খালাসি
তারা প্রাত:কৃত সারতে নেমেছিলেন। ওই সময় দুষ্কৃতীরা টাকা ছিনতাই করতে হাজির
হয়েছিল। টাকা ছিনিয়ে পালানোর সময় সঙ্গে থাকা খালাসী নাজমুল বাধা দিতে গেলে, দুষ্কৃতীরা সামনে থেকে দুটো গুলি করে বাইক নিয়ে
চম্পট দেয়। ছিনিয়ে নিয়ে যায় ছয় হাজার টাকা।“
রক্তাক্ত নাজমুলকে
মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা দেখে জটিল পরিস্থিতি ভেবে
কলকাতার পিজিতে রেফার করে দেন।অন্যদিকে ঘটনার তদন্তে নামে খড়গপুর গ্রামীন থানার
পুলিশ।পরদিন দিনের বেলা ঘটনাস্থলে গুলি করার তেমন কোন চিহ্ন খুঁজে পায়নি পুলিশ।
শুরু হয় ঘটনার সঠিক তদন্ত।
লরির চালক আমানুরকে
বারবার জিজ্ঞেস করার পর পাল্টাতে থাকে কথা। বেরিয়ে আসে একাধিক তথ্য। অনেক চেষ্টার
পর পুলিশ জানতে পেরেছিল কোনো গুলি করার ঘটনা ঘটেনি সেই রাতে। পরিকল্পিতভাবে নাজমুলকে খুন করে পথের কাঁটা সরাতে চেয়েছিল লরির
চালক আমানুর। কারণ আমানুরের নজর ছিল নাজমুলের স্ত্রীর দিকে। সদ্য বিবাহিত নাজমুলের
স্ত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল লরির চালক আমানুরের। আমানুর ও নাজমুলের
স্ত্রী তামান্না বিবি দুজনে পরিকল্পনা করেই নাজমুলকে খুন করার পরিকল্পনা করেছিল বলে পুলিশ জানতে পারে। তাই জকপুর এলাকায় ঘুমন্ত নাজমুলকে স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে খুঁচিয়ে
কুপিয়ে খুন করার চেষ্টা করেছিল চালক আমানুর। তামান্না বিবি ও আমানুরকে জেরা করে সব জানতে পারার পর তাদের গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। অন্যদিকে চিকিত্সার জন্য নাজমুলকে
পিজিতে পাঠানো হয়েছিল ৷ বুধবার বিকাল ৪ টা নাগাদ সেখানে তাঁর মৃ্ত্যু
হয়েছে৷ ঘটনার পরে শোকের পরিবেশ মুগবাসানে ৷ তবে অভিযুক্তরা জেল হেপাজতে ৷

কোন মন্তব্য নেই