খড়গপুর: খড়গপুর আইআইটির মৃত ছাত্রের পরিবার এবার ঘটনার পূর্ণ তদন্ত ও পুরো ঘটনা খোলাসা করার দাবি নিয়ে সপরিবারে হাজির হলো পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুরে। কলকাতা হাইকোর্টের এক আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে খড়গপুর টাউন থান…
খড়গপুর: খড়গপুর আইআইটির মৃত ছাত্রের পরিবার এবার ঘটনার পূর্ণ তদন্ত ও পুরো ঘটনা খোলাসা করার দাবি নিয়ে সপরিবারে হাজির হলো পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুরে। কলকাতা হাইকোর্টের এক আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে খড়গপুর টাউন থানার পুলিশের কাছে হাজির হন। সেখানে লিখিতভাবে জানান" আমাদের ছেলেকে খুন করা হয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট দ্রুত দিন, না হলে হাইকোর্টে যাব।" এদিন তারা দেখা করেছেন খড়্গপুর আইআইটি কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও।
গত সাত দিন আগে খড়গপুর আইআইটির লালা লাজপত রায় হোস্টেলের একটি বন্ধ রুমের ভেতরে ফাইজাল আহমেদ (২৩)নামে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রের দেহ উদ্ধার হয়। যার দেহতে পচন ধরেছিল। আইআইটির মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নজরদারির মাঝে কবে মৃত্যু হল ?কিভাবে হল? দেহতে পচন ধরে যাওয়া নিয়ে বহু প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আসামের বাসিন্দা ওই ছাত্রের পরিবার যতক্ষণে খবর পেয়ে মর্গে এসে ছেলের দেহ দেখতে পেয়েছিল ততক্ষণে দেহটি আরো ফুলে অন্যরকম হয়েছিল। দেহটি প্রথমে তাদের ছেলের নয় দাবি করে ডিএনএ তদন্ত দাবি করে জেলা শাসকের দ্বারস্থ হয়েছিল পরিবার, দেওয়া নিতে অস্বীকার করেছিল। পরে আইআইটি কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্যরা বোঝানোর পর শনিবার দেহ নিয়ে আসামে ফিরে গিয়েছিল। ছেলের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ও ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করেছিল খড়গপুর টাউন থানায়।
সেই ঘটনার পর ছেলের দেহের শেষকৃত্য সম্পন্ন করে সপরিবারে কলকাতা হাইকোর্টের এক আইনজীবী অনিরুদ্ধ মিত্রের সঙ্গে বৃহস্পতিবার হাজির হন খড়গপুর শহরে। ওই ছাত্রের বাবা সেলিম আহমেদ, মা রেহানা আহমেদ , আইনজীবী ও আরো কয়েকজন আত্মীয় হাজির হয়েছিলেন খড়গপুর টাউন থানাতে। এবার খড়গপুর টাউন থানায় ছেলের দেহে একাধিক বিবরণ উল্লেখ করে সরাসরি খুনের অভিযোগ দায়ের করেন মৃত ছাত্রের মা রেহানা আহমেদ। পুলিশের কাছে আবেদন করেন-ছেলেকে খুন করা হয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট খোলাসা করা হোক।
এদের সঙ্গে থাকা আইনজীবী অনিরুদ্ধ মিত্র বলেন-" পুলিশের তদন্তের ওপর আমাদের আস্থা আছে। আমরা একটু সময় দিচ্ছি। তারপর তদন্ত মনঃপুত না হলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হব।"
এদিন মৃত ছাত্রের মা রেহানা আহমেদ বলেন-" আমি সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে সমস্ত আইআইটি পড়ুয়ার মা-বাবাদের অনুরোধ করব আপনারা নিশ্চিন্তে ঘুমাবেন না ছেলেকে এই আইআইটিতে ছেড়ে। এখানে অনেক সমস্যা আছে। আমার ছেলেকে খুন করা হয়েছে। আপনারা সজাগ থাকুন। না হলে আমার ছেলে আজ মারা গিয়েছে, কাল আপনাদেরও বিপদ আসতে পারে। "

কোন মন্তব্য নেই